আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ইছামতির বেঁড়ীবাধ সংষ্কারে দুর্নীতি-অনিয়ম, নেপথ্যে পাউবো’র কার্য সহকারী শফিকুল

মাহমুদুল হাসান শাওন: দেবহাটা ইছামতি নদীর বেঁড়ীবাধ সংষ্কারে ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আর সংঘটিত সীমাহীন দুর্নীতি-অনিয়মের মুল নেপথ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যসহকারী শফিকুল ইসলাম। দেবহাটার সীমান্তবর্তী ভাঙনকবলিত সুশীলগাতী এলাকার ইছামতি নদীর ৩ নং পোল্ডারের ঝুকিপুর্ন বেঁড়ীবাধের ৭০০ মিটার সংষ্কার কাজে সরকারী ভাবে ৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও, সাতক্ষীরা শহরের ঠিকাদারী প্রতিষ্টান সানি এন্টারপ্রাইজকে সামনে রেখে কাজ দেখাশুনার পরিবর্তে নিজেই ঠিকাদার সেজে বেঁড়ীবাধটি সংষ্কারের নামে সীমাহীন দুর্নীতি-অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে পাউবো’র কার্যসহকারী শফিকুল ইসলাম। শনিবার সুশীলগাতী এলাকার জনসাধারনের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেঁড়ীবাধটি সংষ্কারে যে ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা কোনভাবেই মানা হচ্ছেনা সংষ্কার কাজে। পাশাপাশি সংস্কার কাজটির অগ্রগতি বা কোন কিছুই জানেনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সানি এন্টারপ্রাইজ। সংষ্কার কাজে কর্মরত শ্রমিদের সর্দার জানায়, তারা পাউবো’র কার্য সহকারী শফিকুলের কথামতো কাজ করছেন। তারা আদৌ কোন ঠিকাদারকে চেনেনা। শফিকুলকে পাউবোর কর্মকর্তা এবং একইসাথে ঠিকাদার হিসেবে জানেন তারা। অন্যদিকে সরকারী নিয়ম মোতাবেক বেঁড়ীবাধটি সংষ্কারে গড় উচ্চতা ১ ফুট করার কথা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে কয়েক ইঞ্চি কম করেই শফিকুলের কথামতো করা হচ্ছে সংষ্কার। তাছাড়া সংষ্কার কাজে আরএস (রিভার সাইড) ১:৩ এবং সিএস ১:২ হারে মাটি দিয়ে ঢাল করার নির্দেশনা থাকলেও, মাটি না দিয়ে কোদাল দিয়ে বেঁড়ীবাধের মাটি কেটে ঢাল করা হচ্ছে। এছাড়াও ভাঙ্গন কবলিত বেঁড়ীবাধের কয়েকটি স্থানে শক্ত মাটির পরিবর্তে নামমাত্র কাঁদা দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ চানানো হচ্ছে। এতে করে বেঁড়ীবাধটি উন্নয়নের পরিবর্তে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন ঝুকিপুর্ন থেকে যাচ্ছে বেঁড়ীবাধ তেমনি অপরদিকে পাউবোর সুষ্ঠ তদারকির অভাবে সরকারী বরাদ্দকৃত অর্থের অপব্যবহার বা হরিলুট হচ্ছে। তাই দুর্নীতি পরায়ন পাউবোর কার্য সহকারী শফিকুল সহ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি বেঁড়ীবাধটি সুষ্ঠ ও স্থায়ীভাবে সংষ্কারের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী। এব্যপারে পাউবোর আলোচিত কার্য সহকারী শফিকুল বলেন, আমি শ্রমিকদের কাজে লাগিয়েছি ঠিক কিন্তু আমি ঠিকাদার না। ঠিকাদার রয়েছে। ঠিকাদার তো আর সব সাইটে এসে পারেননা তাই আমিই যাবতীয় কাজ পরিচালনা করছি। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সানি এন্টারপ্রাইজের সাথে কথা বললে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, কাজটি আমাদের প্রতিষ্ঠানেরই নামে। কিন্তু আমরা তো সব সময় যেতে পারিনা তাই পাউবোর শফিকুল ভাই কাজটি দেখাশুনা করছে। তবে সর্বশেষ চলমান সংষ্কার কাজটির দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এসও ওবায়দুল হক মল্লিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: