আজ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বনদস্যু আজাদ এখন মুন্সিগঞ্জের ৮ নাম্বার ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি!

নিজিস্ব প্রতিনিধি: শ্যামনগর মুন্সিগঞ্জ-ইউনিয়নের যতিন্দ্রনগরের ৮ নাম্বার ওয়ার্ড আঃলীগ, যুবলীগের সভাপতি হয়েছে আজাদ। ইউনিয়ন  যুবলীগের আব্দুল্যাহ ও মোস্তফার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বনদস্যু আজাদ সভাপতি ও হাফিজুর রহমান সাধারণ সম্পাদক সহ মোট ৪১ জন বিশিষ্ট কমিটি আগামী ৩ বছরের জন্য অনুমোদন দেন। এই ৪১ জন সদস্যের ভিতর অনেকেই এক-দুই মাস গ্রামের বাহিরে। সভাপতি আজাদ সম্পুর্ণ মুর্খ, কোন প্রকার শিক্ষাগত যোগ্যতা তার নেই। এলাকাবাসীর ব্যাপক ক্ষোভ। এ নিয়ে ৭ নং মুন্সিগঞ্জ-ইউনিয়ন সহ সুন্দরবন বাজার এলাকায় নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯৯০ সাল থেকে আজাদ বাহিনীর প্রধান হিসাবে আজাদ ছিলো অত্যান্ত দক্ষ দল নেতা। ভারত থেকে অস্ত্র ও মাদক পাচারে এলাকার মধ্যে প্রথম কোটায় তার নাম ছিল। ১৯৯৫ সালে জেলে বাওয়ালিরা অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি অভিযোগ দেয়। ২০০২ সালের শ্যামনগর থানার ৪১ ক্রমিকের সন্ত্রাসী হিসেবে কয়েক ডজন মামলা ও কুড়িটির বেশী সাধারণ ডায়েরি চলমান আছে। ২০১৩ সালে জি আর ১৩/২৪৬।  ২০১৪ সালে RAB-6 ব্যাটেলিয়নে জেলেরা অভিযোগ করলে RAB-6 শ্যামনগর থানায় তাকে চালান করেন। ২০১৭ সালে উপজেলা কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দেওয়া হয় যার স্বারক নং জি ৩২৮৯। ২০১৭ সালে জি আর ৩৯/৩০২ নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে সাতক্ষীরা পিটিশন ১৮৭/২০১৭। এলাকায় সূত্রে জানা গেছে আজাদ কিশোর বয়স থেকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িয়ে পড়ে এলাকার জেলে-বাওয়ালীদের জিম্মি সহ অতিষ্ঠ করে আসছে। ১৯৯০  সাল থেকে বনদস্যুতা মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুরু করে। শুরু থেকে প্রশাসনের বাধা না পেয়ে সুকৌশলে স্থানীয়ভাবে বনদস্যুতায় পরিণত হয়। এলাকাবাসী আরো বলেন, বনদস্যু আজাদের এইসব কার্যকলাপের সাথে তার আপন বড় বোন স্বামী পরিত্যাক্তা নুরজাহান বেগম এবং ভাগ্নি খুকু সহযোগিতা করে আসছে। আজাদের অপরাধের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে, এবং মুন্সীগঞ্জের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল-সহ নয়টি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা বিভিন্ন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দায়ের করলেও নুরজাহান বেগম ও ভাগ্নি খুকু উপরি মহলকে  ম্যানেজ করে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। অভিযোগ দিলে অদৃশ্য কারণে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না কারণ পেটের দায়ে বনজীবীদের সুন্দরবনে যেতেই হবে,এবং মিথ্যা মামলায় জড়াবে। বর্তমানে সুন্দরবনে বনদস্যুদের উপর সরকারের কড়া নজরদারির কারনে বনদস্যু  আজাদ এলাকায় গেড়ে বসেছে।গোপন সুত্রে জানাযায়,আজাদ সহ তার ছেলে মিলে ভারতীয় পেলাষ্টিক ফাইভার ০৬ নামক অবৈধ কারেন্ট জাল পাইকারী ও খুচরা বিক্রিয় করছে। বর্তমানে বনদস্যু আজাদ উপরি মহলকে ম্যানেজ করে সুকৌশলে ৭ নাম্বার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নাম্বার ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি পদ হাসিল করেন। যাহাতে ভবিষ্যতে কোন প্রকার অসুবিধার সম্মুখীন না হতে হয়। বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ ব্যক্তিদের মনে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে আজাদ তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: