আজ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মাহমুদপুর গালর্স কলেজিয়েটের লম্পট ও চরিত্রহীন শিক্ষক আশরাফুলের স্থায়ী বরখাস্তের দাবি অভিভাবক ও এলাকাবাসীর।

মিছিল ডেস্ক: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের অবস্থিত মাহমুদপুর গালর্স কলেজিয়েট স্কুল। এমন এক সময় ছিল এই স্কুলে তিন থেকে চারশত মেয়ে পড়া লেখা করত। এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। সুনাম সুখ্যাতি ও কম ছিল না যা এখন নেই বললেই চলে। এই স্কুলের অবনতির কারণ হিসাবে স্কুলের শুভাকাংখি, এলাকাবাসি ও অভিভাবকরা বলেন এসবের মুল কারন চরিত্রহীন শিক্ষক আশরাফুল। এই শিক্ষক ক্লাস নিতে গিয়ে সুন্দরী ছাত্রীদের দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। গায়ে, পিঠে এমনকি মেয়েদের স্পর্ষ কাতর স্থানে হাত দেওয়ার ও অভিযোগ আছে অনেক ছাত্রীর। ইতি পুর্ব নাম প্রকাশে অনাচ্ছুক কয়েক জন অভিভাবক বলেন এই লম্পট চরিত্রহীন শিক্ষক নামের কলংঙ্ক আশরাফুলের জন্য আমাদের মেয়েদের স্কুল বন্ধ করে বাল্য বিবাহ দিতে বাধ্য হয়েছি। গত বছর গাংনিয়া গ্রামের ৭ম শ্রেণী পড়ুয়া মেধাবী ছাত্রী গায়ে হাত ও কুপ্রস্তাব দেয়। মেয়েটি বাড়ি গিয়ে তার বাবাকে জানালে কথাটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসি লম্পট শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে তার বিরুদ্ধ স্কুলের প্রধান শিক্ষক বরাবর একটা লিখিত অভিযোগ করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি তাকে সাময়িক বরখস্ত করে। মেয়াদ অন্তে এই লম্পট গত ৩ মাস আগে স্কুলে যোগদান করে। কথায় বলে কয়লা ধুলে ময়লা যায় না। আগের ঘটনা ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসির মন থেকে মুছে যাওয়ার আগে আবার ও একই ঘটনা ঘটায়।

তবে এবার স্কুলে নয় একেবার ছাত্রীর বাড়ি গিয়ে। ঘটনার তারিখ ৪ জুলাই ২০১৯ইং। ঘটনাটি ঘটায় ঐ স্কুলের দশম শ্রেণীর মাহমুদপুর গ্রামের জিম্মত আলির মেয়ে আকলিমা খাতুনের সঙ্গে। এই প্রসঙ্গে ছাত্রীর বাবা বলেন, ঘটনা ধামা চাপা দেওয়ার জন্য এই লম্পট ঘটনার পরের দিন ২ লক্ষ্য টাকা নিয়ে রাতের আধারে আমার বাড়ী আশে । আমি তার টাকা না নিয়ে অপমান অপদস্ত করে লম্পটাকে আমার বাড়ি থেকে বাহির করে দেয়। পরের দিন সকাল বেলা হেড মাস্টারের সহযোগীতায় মেয়ে এবং আমি  স্কুলেরর ম্যানিজিং কমিটির সভাপতির কাছে গিয়ে আমার মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা করি এবং শিক্ষক আশরাফুলের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক বরাবর আমার মেয়ে একটা লিখিত অভিযোগ করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার ম্যানিজিং কমিটির মিটিং হয় এই চরিত্রহীন শিক্ষককে নিয়ে। মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুর রউফ,প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষক মন্ডলী অভিভাবক ও এলাকাবাসী। মিটিংয়ে এই লম্পটকে আবার ও সাময়িক বরখস্ত করা হয়। এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ১০ম শ্রেণী  এক ছাত্রী শিক্ষক আরশাফুর রহমানের বিরুদ্ধে তার সঙ্গে অসৌজন্য মুলক আচারণ করেছে এ মর্মে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর একটা লিখিত   অভিযোগ করেছে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে সর্ব সম্মতিক্রমে শিক্ষক আরশাফুর রহমানকে সাময়িক বরখস্ত করা হয়েছে। অপরাধ প্রমানিত হলে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে কঠর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। অপর দিকে এ সিন্ধান্তে খুশি হতে পারিনি ছাত্রী, অভিভাবক ওএলাকাবাসি। ছাত্রীরা বলে আমরা সাময়িক বরখস্ত বুঝিনা, আমরা চাই এই শিক্ষক যেন আমাদরে শ্রেণী কক্ষে না ঢোকে। তার আমরা আর এ স্কুলে দেখতে চাই না। অভিভাবকরা জানায়, যদি এই লম্পট চরিত্রহীন শিক্ষক আবার ও এই স্কুলে ফিরে আসে তাহলে আমরা আমাদের মেয়েদের এই স্কুলের পড়াবোনা। পরবর্তীতে আমাদের মেয়েদের এখানে ভর্তি করাবোনা।    সর্বপরি মাহমুদপুর গালর্স কলেজিয়েট স্কুলের লম্পট ও চরিত্রহীন শিক্ষক আশরাফুলের স্থায়ী বরখাস্তের দাবি অভিভাবক, এলাকাবাসী ও স্বচেতন মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!