আজ ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বগুড়ার শেরপুরে কাজীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষীর স্বাক্ষর ছাড়া বিয়ে রেজিষ্ট্রি করার অভিযোগ

শেরপুর(বগুড়া) প্রতিনিধিঃ  বগুড়ার জেলার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের কাজী রোকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে গোপনে জালিয়াতি করে স্বাক্ষীর স্বাক্ষর ছাড়াই বিয়ে রেজিষ্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে। অতঃপর বিষয়টি জানাজানি হলে বিয়ে রেজিষ্ট্রির ১৮ দিন পর স্বাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বাক্ষর আদায় করে নেয় ওই কাজী জানান ভুক্তভোগী ব্যক্তিগন।জানা যায়, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের স্বরো গ্রামের মৃত জগত আলীর ছেলে কছিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রায় ১ মাস পূর্বে একই গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের স্ত্রী ১ সন্তানের জননী শিরিনা বেগম শেরপুর থানায় একটি ধর্ষনের অভিয়োগ করে। অভিযোগের কথা শুনে কছিম উদ্দিন গৃহবধুকে কৌশলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ২৫ জুন বিশালপুর ইউনিয়নের কাজী রোকন উদ্দিনের কাছে নিয়ে গিয়ে রেজিষ্ট্রি ভলিয়ম বই নং ১/১৯ এর ৬৫ নং পাতায় ৫০ হাজার টাকার কাবিন থাকলেও কৌশলে ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ দেখানো হয়েছে। এতে জালিয়াতি করে মেয়ে পক্ষের স্বাক্ষী করা হয়েছে শঠিবাড়ি গ্রামের মৃত দলিল বক্সের ছেলে বিশা মিয়া, ছেলের পক্ষের একই গ্রামের রাজেক মেম্বরের ছেলে শহিদুল ইসলাম ও স্বরো গ্রামের ছলিম উদ্দিন সরকারের ছেলে মিসকাত কামাল মিন্টুক।কিন্তু আদৌ তারা বিয়ের সম্পর্কে কিছুই জানেন না। বিয়ের প্রায় ১৮ দিন পর গত শনিবার কছিম উদ্দিন ও কাজী রোকন উদ্দিন স্বাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভলিয়মে স্বাক্ষর করে নেয় বলে জানান ওই স্বাক্ষীরা ।এ ব্যাপারে স্বাক্ষী বিশা মিয়া, শহিদুল ইসলাম ও মিন্টু বলেন, আমরা বিয়ের ঘটনার কিছুই জানিনা। কাজী ও কছিম মনগড়া ভাবে আমাদের নাম দিয়েছে। তাছাড়া ভবানীপুর ইউনিয়নের ছেলে মেয়ের বিয়ে বিশালপুর ইউনিয়নের কাজীর কাছে রেজিষ্ট্রি হওয়ার কথা নয়। নিশ্চয় এখানে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। বিয়ের খবর প্রকাশ হওয়ায় প্রায় ১৮ দিন পর গত শনিবার আমাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বাক্ষীর ঘরে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় কাজী ও কছিম।উল্লেখ্য এর পুর্বেও বাল্য বিয়ে রেজিষ্ট্রি ও বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজ করার অপরাধে তাকে আটক করে থানায় আনা হয়েছিল। সেখান থেকে কাজী রোকন উদ্দিন মুচলেকা দিয়ে পার পেয়ে যায়।এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, স্বাক্ষীর স্বাক্ষর না নিয়ে বিয়ে রেজিষ্ট্রি করা একটি বড় ধরনের অপরাধ। কেউ এ ধরনের অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: