আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কক্সবাজারে চলছে সরকারি পাহাড় ও গাছ বিক্রির হিড়িক, অভিযানে মিলেছে সত্যতা।

আব্দুল করিম চট্টগ্রাম থেকে: কক্সবাজারে চলছে সরকারি পাহাড় বিক্রির উৎসব।
কক্সবাজার শহরের বাস টার্মিনালের সাথেই সরকারি পাহাড়ি খাস জমি। অথচ ব্যক্তিগত ভাবে সরকারি পাহাড় গুলো দখল করে খন্ড খন্ড করে চলছে বিক্রি। শুধু তাই নয়, সেখানে প্রকাশ্যে চলছে পাহাড় কাটা উৎসব। বর্তমানেও থেমে নেই পাহাড় কাটা। মঙ্গলবার বিকালে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সেখানে পরিদর্শনে যান সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার মুক্তার। তিনিও পাহাড় কাটার সত্যতা পান।শাহরিয়ার মুক্তার বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে মঙ্গলবার বিকালে বাস টার্মিনাল সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব লারপাড়াস্থ গমপানির ছড়া এলাকায় অভিযানে যাই । সেখানে সরকারি বিশাল পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। খন্ড খন্ড করে কেটে সরকারি পাহাড়গুলো বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অভিযানের সময় কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযানের আগেই তারা পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়গুলো কাটা ও বিক্রির কাজ হচ্ছে বলে জানা গেছে স্থানীয়দের মাধ্যমে। তবে এ বিষয়ে কার্যকরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবগত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কাল (বুধবার) পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। সরকারি পাহাড় বিক্রি, ক্রয় ও পাহাড় কাটায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে জানান। পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নুরুল আমিন বলেন, ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শন করেছি। অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ে লারপাড়াস্থ গমপানিরছড়া এলাকায় পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার বলেন, সরকারি পাহাড় বিক্রি ও কাটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। সমাজের এক শ্রেণির অসাধুরা এসব সরকার বিরোধী কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসন খুবই কঠোর। লারপাড়াস্থ সরকারি ওই পাহাড়টিতে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব লারপাড়াস্থ গমপানিরছড়া এলাকায় বিশাল সরকারি পাহাড়টি কামরুল নামে এক ব্যক্তির দখলে রয়েছে। কামরুলের বাবা সরকারি এই পাহাড়টি দখলে রেখেছিল। বাবা মারা যাওয়ার পর সরকারি পাহাড়টি খন্ড খন্ডভাবে বিক্রি করে যাচ্ছে কামরুল। এখনো বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রির পর সেখানে চলছে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা। দিনরাত প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা হচ্ছে। কোনভাবে থামানো যাচ্ছে না পাহাড় কাটা। কেটে নেওয়া হয়েছে অনেক গাছও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: