আজ ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মহিলার সাথে প্রতারণা, গণপিটুনি

আব্দুল করিম চট্টগ্রাম জেলা: হাটহাজারীতে ছেলে ধরা সন্দেহে তিন প্রতারককে গণপিটুনি ও একটি প্রাইভেট কার পুড়িয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী। বুধবার (১৭ জুলাই) উপজেলার ছিপাতলী ইউনিয়নের এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত তিন প্রতারক বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেন, লোহাগাড়া থানার আদুনগর গ্রামের আব্দুল মালেকের বাড়ির মরহুম রাজা মিয়ার ছেলে আব্দুল মালেক (৬০), একই থানার পদুয়া মৌলভি পাড়ার লালুর বাপের বাড়ির মরহুম মো. ইসমাইলের পুত্র চালক নুর কবির (২৮) ও আদুনগর গ্রামের সাহি পাড়া জুনু সিকদার বাড়ির মরহুম আব্দুল হাইয়ের ছেরে নুরুল ইসলাম (৬০)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টার দিকে একটি প্রাইভেট কারযোগে মালেক, নুর, কবির ও অজ্ঞাতনামা এক যুবক উপজেলা পরিষদের সামনে আসেন। তারা অজ্ঞাতনামা এক নারীকে কথিত রাজমোহনী তাবিজ দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে কৌশলে কানের দুল, স্বর্ণালংকার বোকা বানিয়ে নকল স্বর্ণের বার দিয়ে ৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। শুধু তাই নয় তারা একটি দরবারের নাম বিক্রি করে আওলাদও দাবি করে। টাকা নেয়ার পর প্রতারণার স্বীকার ওই মহিলাকে পেছনে না তাকিয়ে সামনের দিকে চল্লিশ (৪০) কদম হাঁটতে বলে। ভুক্তভোগী মহিলা চার/পাঁচ কদম হেঁটে পেছনে তাকিয়ে দেখে চক্রটি প্রাইভেট কার নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তা দেখে ওই নারী চিৎকার দিলে নিজেদের প্রাইভেট কারযোগে প্রতারকরা চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক হয়ে ইছাপুর বাজার দিয়ে উত্তর দিকে পালিয়ে যেতে থাকে। এ সময় কিছু যুবক মোটরসাইকেলযোগে তাদের পিছু নিয়ে ধাওয়া করে ছিপাতলী ইউনিয়ন পরিষদ রোডস্থ বড় হুজুর বাড়ি এলাকায় প্রতারকদের বহনকারী গাড়িটি আটক করে। পরে ছিপাতলী বোয়ালিয়া মুখ এলাকায় তাদেরকে এনে ছেলেধরা ও কল্লাকাটা গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। উত্তেজিত জনতা প্রতারকদের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি (ঢাকা মেট্রো গ- ১৩-৮৬৪০) আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত জনতা থেকে প্রতারকদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। পরে পুলিশের সহযোগিতায় উত্তেজিত জনতা থেকে তিন ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারী হাটহাজারী মডেল থানার এসআই জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার তিনজনেই প্রতারক। সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মহিলাদের বোকা বানিয়ে নকল স্বর্ণের বার দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়াই মূলত তাদের কাজ। তারা প্রতারনার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। তিনজনকেই আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রতারণার স্বীকার মহিলা মামলা করবে বলে জানালেও এখনো পর্যন্ত আসেনি। হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, গণপিটুনির শিকার তিনজনই চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি আছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও ওসি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: