আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কালুরঘাট সেতু পার হওয়ার সময় যাত্রীর মন্তব্য, কইলজ্যার বডু-টডু বিয়্যাগ্গীন ছিড়ি গেইয়্যি!

আব্দুল করিম,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ঘটনাস্থল কালুরঘাট ব্রীজ, সিএনজি চালিত টেমেপাযোগে পারাপারকালে হঠাৎ ধপাস করে ব্রীজে সৃষ্ট গর্তে পড়ে আটকে যায় গাড়ীটি। এসময় মাঝ বয়সী এক মহিলা যাত্রীর মুখ ফসকে বেরিয়ে এলো ‘ও-মাগো কইলজ্যার বডু-টডু তো বিয়্যাগ্গীন ছিড়ি গেইয়্যি-! এসময় তাঁর সাথে সুর মেলাতে দেখা গেল অন্যান্য সহ-যাত্রীদের অনেককেই।
তাদের কথায় বুঝা গেল, কালুরঘাট ব্রীজের এখন যে দুর-অবস্থা, তাতে এটি এখন এক প্রকার কমন বাক্যে পরিণত হয়েছে। জানা যায়- বোয়ালখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের কয়েক লক্ষ মানুষের যাতায়াতের জন্য কর্ণফুলী নদীর উপর ১৯৩০ সালে নির্মিত হয় এই সেতুটি। অনেক আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ একমুখী কালুরঘাট সেতু এবং নতুন সেতু নির্মাণ নিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে এলাকাবাসী ও স্থানীয় জন-প্রতিনিধিদের মাঝে। এরমধ্যে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ২৩৯ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি জুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়। সৃষ্ট এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে আছে। বিটুমিন উঠে গেছে অনেক আগেই, বর্তমানে ইট-সুড়কিও উঠে গিয়ে ব্রীজ জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। এসব গর্তে আটকে যাচ্ছে গাড়ি। এতেই দীর্ঘ যানজট। যা থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে যাত্রীদের দুর্ভোগ। পায়ে হেঁটে ব্রীজ পার হতে গিয়ে একদিকে মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, অন্যদিকে যানবাহনের চাকা থেকে কাঁদাযুক্ত পানি ছিটকে পড়ে নষ্ট হচ্ছে পথচারীদের জামাকাপড়। অপচয় হচ্ছে সময়,নষ্ট হচ্ছে শ্রম ঘণ্টা। উভয় পাড়ে দীর্ঘ যানজটে অফিসগামী ও ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে প্রতিনিয়ত।এটাই এখন ঝুঁকিপূর্ণ কালুরঘাট সেতুর প্রতি মুহূর্তের বাস্তব চিত্র। দিনকে দিন পিছিয়ে পড়ছে সমৃদ্ধ বোয়ালখালীসহ দক্ষিণের বেশ কিছু এলাকা। এতে বাড়ছে ক্ষোভ। এনিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন বিপ্লব সরকার নামের একজন শিক্ষক। তিনি বলেন- এক সময় ব্রীজটি ছিল এ অঞ্চলের মানুষের ১১ পৃষ্ঠার ৭ম কলামজন্য আশীর্বাদ। এখন পরিণত হয়েছে অভিশাপে।ব্রীজটির এ দুরাবস্থার কারণে ঠিকমত কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হওয়া যায় না, অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও সময়মত গাড়ি পাওয়া যায় না।নেজাম উদ্দিন নামের এক সিএনজি টেমেপা চালক বলেন- ব্রীজটির বর্তমানে যে অবস্থা তাতে এর উপর দিয়ে গাড়ি চালাতে ভয় লাগে। মাঝপথে গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে, যাত্রীদের গালমন্দ শুনতে হয়।এছাড়া যানজটে পড়লে তো কথাই নেই, বসে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। যাত্রীরা মাঝপথে নেমে যান। এব্যাপারে (১৯জুলাই)শুক্রবার সকালে রেলওয়ে চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. সুবক্তগীন সাংবাদিকদের বলেন, সবেমাত্র যোগদান করলাম, এর মধ্যে ব্রীজটি পরিদর্শন করেছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: