আজ ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

গ্রাম্য সালিশদারের স্ত্রী বলে কথা! দেবহাটার গোয়ালে আটকে রেখে নির্যাতন!

ইব্রাহীম খলিল ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: গ্রাম্য সালিশদারের স্ত্রী বলে কথা! বীজতলায় যাওয়ায় গোয়ালে আটকে রেখে নির্যাতন। দিন শেষে খেসারত দিয়ে মুক্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেবহাটার বহেরা গ্রামে। এঘটনায় শিশু দুইটিকে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অন্ধকার গোয়ালে আটকে রাখে। সন্ধার আগে শিশুদের অভিভাবকেরা ধার করে নগদ ১২ শত ও বাকিতে তিনশত টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে মুক্ত করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, গত এক সপ্তাহ আগে বহেরা গ্রামের মহসীনের পুত্র সিফাত হোসেন (সাড়ে ৪) ও মিলন গাজীর কন্যা মারিয়া (৩) নামের দুই দুই অবুঝ শিশু খেলার ছলে একই গ্রামের গ্রাম্য সালিশদার ও সাবেক ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা ওহাব শাহাজীর ধানের বীজ তলায় যায়। এসময় ওহাব শাহাজীর স্ত্রী মাছুরা খাতুন দেখতে পেয়ে শিশু দুইটিকে গোয়াল ঘরে আটকে রাখে। পরে শিশুদের মায়েরা তাদেরকে না দেখতে পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে থাকে। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে তারা জানতে পারে তাদের সন্তানদেরকে প্রভাব শালী ওহাব শাহাজীর স্ত্রী মাছুরা খাতুন তাদের গোয়াল ঘরে আটকে রেখেছে।
 শিশু মারিয়ার  পিতা মিলন গাজী জানান, আমি ট্রাকের হেলপারের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমার অবুঝ শিশু তাদের ক্ষেতে যাওয়ায় ওরা মারিয়াকে অন্ধকার গোয়াল আটকে রাখে। পরে আমি আমার স্ত্রী কাছ থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পেরে টাকা যোগাড় করে মারিয়াকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলি। সে টাকা যোগাড় করতে না পেরে কয়েকবার মাছুরা খাতুনের হাতে পায়ে ধরার পরেও না ছাড়লে ,আমার স্ত্রী প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কর্জ করে আছরের নামাজের পরে অনেক কষ্ঠে দুইশত টাকা জোগাড় করে ওহাব শাহাজীর স্ত্রী মাছুরা খাতুনের কাছে গেলে তিনি বলেন সম্পূর্ন ক্ষতি পূরন এক হাজার টাকা ছাড়া মারিয়াকে ছাড়া হবে না। দুই শত টাকা নগদ এবং তিনশত টাকা বাকির শর্তে শিশু মারিয়মকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। অপর শিশু সিফাত হোসেনে  পিতা  মহসিন বলেন আমি অন্যের মাইক্রো গাড়িতে ড্রাইভার হিসেবে কাজ করি। আমার স্ত্রী মোবাইল ফোনে আমাকে বিষয়টি জানালে , আমি বাড়ী ফিরে এক হাজার টাকা ক্ষতি পুরণ দিয়ে আমার ছেলেকে বাড়ী নিয়ে আশি।তবে এলাকাবাসীর পক্ষে এমন ধরনের মানবধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিষয়টি নিয়ে ওহাব শাহাজীর স্ত্রী মাছুরা খাতুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সিফাত ও মারিয়া আমাদের ক্ষেতে যেয়ে ধানের বীজ তলা নষ্ট করেছে। তাই তাদেরকে আটকিয়ে ক্ষতিপূরনের টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: