আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গবন্ধু তুমি আছ হৃদয়ে

তারিখ টি ছিল ১৭ মার্চ । এই দিনে তিনি জম্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সহজ, সরল, নম্, ভদ্র ও সদালাপী। বাঙ্গালী জাতির মুক্তির কান্ডারি। বাঙ্গালী জাতির পথ প্রদর্শক। বাঙ্গালী জাতির স্বাধীন ভাবে চলা, বলার দিশারি। বাঙ্গালী জাতির আশার আলো। তিনি জম্ম গ্রহণ না করলে বাংলাদেশ নামে একটা স্বাধীন দেশের জম্ম হত না। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে কোন দেশের নাম থাকত না। যিনি সর্বদা দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে ভাবতেন। যিনি দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কখনও কারো সাথে আপোস করেননি। তিনি ছিলেন অন্যায়ের সাথে আপোসহীন নেতা। তিনি ছিলেন ন্যায়ের ধারক বাহক। তিনি কখনও অন্যায়ের সাথে আপোস করেননি। তিনি ছিলেন নির্ভীক সৈনিক। দেশ মাতৃকার সেবায় তিনি সর্বদা নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। যিনি দেশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ছিলেন আপোসহীন ব্যক্তিত্ব। ছোট বেলা থেকে যার একটাই স্বপ্ন ছিল পরাধীনতার ছিকল থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে মুক্ত করা। দেশের জন্য যিনি যৌবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন কারাগারের অন্ধকার কুঠিরে। যিনি দেশের স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনতে হাঁসি মুখে ফাঁসির দড়ি ও গলায় পরে নিতে এতটুকু সংকোচ বোধ করেননি। তিনি আর কেউ নন। তিনি হলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ মহান ব্যক্তিত্ব ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গী পাড়ায় জম্ম গ্রহণ করেন। তার শৈশব কৈশর কাঠে টুঙ্গী পাড়ায়। তিনি ছিলেন টুঙ্গী পাড়ায় সবার কাছে খুব আদরের। তাই তো সবাই তাকে আদর করে খোকা বলে ডাকত। যখন তার ভালো মন্দ বোঝার মত বিবেক বুদ্ধি হয়েছিল তখন থেকে তিনি দেশ আর দেশের মানুষকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। তিনি ভাবতেন কি ভাবে জম্ম ভুমিকে বহি:শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করা যায়। দেশকে স্বাধীন করা যায়। বাংলাদেশ নামে একটা আলাদা স্বাধীন সর্মভৌম ভুখন্ডের জম্ম দেওয়া যায়। এ ভাবনা থেকে জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। সান্নিধ্য লাভ করেন মাওলানা ভাসানি, শেরে বাংলা এ কে এম ফজলুল হকের মত মহামানবদের। ১৯৪৮ সালে সর্বস্তরের মানুষদের নিয়ে আওয়ামী লীগ নামে একটা রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এ দলের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তীতে তার ডাকে ৫২ ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রাজপথে ঝাপিয়ে পড়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এ আন্দোলনে রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠা করেন সালম, জব্বার, রফিক, শফিক সহ আরও কত নাম না জানা প্রাণ। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করার জন্য তাঁর নামে আঁগরতলায় ষড়যন্ত্র মূলক মামলা হয়। তাঁর নেতৃত্বে ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচনে একক ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ৩০ লক্ষ মানুষের জীবন ২ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্যম এর বিনিময় এ দেশ স্বাধীন হয়। ৭ মার্চ তিনি বঙ্গবন্ধু উপাদিতে ভূষিত হন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ এর ভাষণ ছিলো স্বাধীনতার মুলমন্ত্র। বঙ্গবন্ধুর সেই ৭ মার্চ এর ভাষণ আজ আর্ন্তজাতিক দরবারে স্বীকৃতি পেয়েছে। আগষ্ট মাসে মনে পড়ে যায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের কথা। কিছু স¦ার্থনেষী মহল ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান সহ তাঁর পরিবারকে নির্মম ভাবে হত্যা করে। লন্ডনে থাকার সুবাদে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সফল দেশ নেতৃ, মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধু মরেও অমর হয়ে আছে কোটি মানুষের হৃদয়ের মনি কোটায়। পৃথিবী যত দিন থাকবে এই পৃথিবীর মানুষ ও তত দিন তোমায় মনে রাখবে। [ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৭ নং আলিপুর ইউনিয়ন শাখা]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: