আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

নিজেকে মানবাতাবাদী প্রমাণে তসলিমার ব্যাখ্যা যখন সবাই যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চেয়েছে; আমি মৃত্যুদণ্ডের বিপক্ষে বলেছি : তসলিমা

::অনলােইন ডেস্ক::

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার পর কয়েকটি ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন প্রখ্যাত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তার ভক্তরা বলছেন, তসলিমার স্ট্যাটাসগুলোতে এক দিক দিয়ে হত্যাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তসলিমা বলছেন, তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতা চেয়েছেন এবং খুনীদের বিচার চান। তবে তিনি মৃতুদণ্ড বিরোধী। উদাহরণ হিসেবে তসলিমা টেনে এনেছেন দুনিয়া কাঁপানো শাহবাগ আন্দোলনকে।

আজ শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তসলিমা লিখেছেন, ‘হিপোক্রেসি আমি ছাড়া এত বেশি বোধহয় কেউ দেখেনি জীবনে। ৪০ বছর আগে যখন আমি নারীর সমানাধিকারের কথা বলতে শুরু করেছি,যখন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে বলছি, মৌলবাদিরা তো বটেই, তথাকথিত প্রগতিশীলরাও আমার নিন্দে করতো। আমি যখন মানবতার কথা , ক্ষমাশীলতা আর উদারতার কথা বলতাম, তারা হিংসে আর প্রতিশোধের কথা বলতো। আমি যখন বাকস্বাধীনতার কথা বলতাম, তারা বাকস্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলতো। যখন মৃত্যুদণ্ড বাতিল করার কথা বলি, তারা এক দড়িতে ফাঁসি চাই স্লোগান মুখে নিয়ে রাস্তায় নামে।’

‘শাহবাগ আন্দোলনের বিপ্লবীরা যখন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠলো, তখনও ওদের ধর্মনিরপেক্ষতার আন্দোলনকে সমর্থন করেও আমি মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে অনড় থেকেছি। হ্যাঁ তাদের ফাঁসিই আমি চাইনি যারা আমার চিরশত্রু, যে নারীবিদ্বেষী ধর্মান্ধ ফতোয়াবাজরা আমার মাথার দাম ঘোষণা করেছিল। আজ ফাঁসির পক্ষের লোকেরা আমাকে মানবতা শেখাতে আসে!’ 

‘এদের চিলে কান নিয়ে গেছের ষড়যন্ত্র-মিছিলে জড়ো হয় হাজারো মূর্খের দল। তসলিমা পুরুষবিরোধী, তসলিমা পুরুষের সংগে শোয়, তসলিমা দাঁড়িয়ে পেচ্ছাব করে, তসলিমা ধর্ম মানে না, তসলিমাকে ঘৃণা করার জন্য যা যা প্রয়োজন সব করেছে নারীবিরোধী মৌলবাদী এবং মুখোশধারী প্রগতিশীলের দল । এদের ফতোয়া, লাখো মোল্লার লংমার্চ, একই সংগে সুশীলদের নিন্দে এবং ঘৃণা, সরকারের বিরোধিতা আমাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, আজও আমার নিজের দেশে আমার প্রবেশের অধিকার নেই। দেশে আমার বই প্রকাশ অনেককাল বন্ধ। দুনিয়ার সবার মত প্রকাশের অধিকার মানলেও আমার মত প্রকাশের অধিকার না মানার লোক বাংলায় গিজগিজ করছে।’

‘দুই বাংলার চরিত্র একই। বাংলা বাংলা করে প্রাণের টানে এক বাংলায় ঠাঁই নেই বলে আরেক বাংলায় গিয়েছি, সেখানেও দেখেছি একই হিপোক্রেসি। আমাকে ব্ল্যাক আউট করে দিয়েছে পশ্চিমবংগ। আমার লেখাই শুধু নয়, আমি মানুষটাও নিষিদ্ধ সেখানে। আমার দোষ কী? দোষের কথা , দোষের প্রমাণ কেউ কিন্তু দিতে পারে না। শুধু ভিত্তিহীন গুজবের বাক্য আওড়ায়। আমি একাই দাঁড়িয়ে আছি সকল বিরোধিতা, বিদ্বেষ, ঘৃণা আর নিন্দের সামনে!’

‘আজ তারাই আমার যুগ যুগ ধরে বলে যাওয়া কথাগুলোই আওড়ে পণ্ডিত, প্রগতিশীল, মানবতাবাদী, নারীবাদী সাজে, যারা আমাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছে। আজও চাইছে। এত হিপোক্রেসি আমি ছাড়া আর কে দেখেছে এত এক জীবনে!’

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: