আজ ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

আশাশুনির বড়দল কলেজিয়েট স্কুলে জরাজীর্ণ ভবনের উপর উর্দ্ধমুখি ভবন নির্মাণে আতংকিত শিক্ষার্থীরা

বি এম আলাউদ্দীন বিশেষ প্রতিনিধি:

আশাশুনি উপজেলার বড়দল কলেজিয়েট স্কুলে জরাজীর্ণ বহুতল ভবনের উপর থেকে দুই ও তিন তলা ভবন নির্মান করায় আতংকিত হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ঢাকা রানা প্লাজার মত যে কোন মুহুত্বে ঘটতে পারে ভবন ধসের মত ঘটনা। প্রাণ হানিসহ হতাহত হতে পারে আগামীদের ভবিষৎ কোমল ছাত্র ছাত্রীরা। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বড়দল কলেজিয়েট স্কুলটি ১৯৬৯ সালে স্থাপিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানের পশ্চিম পাশে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি জরাজীর্ণ ভবন দাড়িয়ে আছে। যা ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট এর বাস্তবায়নে ২০০১সালে নির্মান হয়। লবনাক্ত এলাকায় নির্মান হওয়া ভবনটির বর্তমানে ঢালাই পিলার, সাদ, প্লাস্টার খসে খসে পড়ছে। ভবনের প্রাণ শক্তি ঢালাই পিলারের অধিকাংশ পিলারে দেখা দিয়েছে ফাটল। শুধু ফাটল নয় অনেক পিলারের ভিতরের মরিচা ধরা রড বাইরে বেরিয়ে এসেছে। একতলা বিশিষ্ট জরাজীর্ণ ভবনের সাদের ঢালাইয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢালাই এর খোয়া খসে খসে পড়ছে। আর এ জরাজীর্ণ ভবনের উপর ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট নতুন করে দুই ও তিন তলা ভবন নির্মান এর কাজ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে দুই তলা ভবনের কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। জরাজীর্ণ ভবনের উপর নতুন করে ভবন নির্মান করায় একদিকে যেমন অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী আছে আতংকের ভিতর, তেমনি ভাবে অভিভাবকরা জানান তাদের সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে স্কুল ও কলেজ পরিবর্তনের কথা চিন্তা করা শুরু করেছেন অভিভাবকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ও সচেতন মহল জানান, বড়দল কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ ড. শিহাব উদ্দীন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে এই নির্মান কাজে বিভিন্ন অনিয়ম করছেন যা এলাকার লোকজন তার কাছে তুলে ধরলেও তিনি কর্ণপাত করছেন না। তারা আরও বলেন, তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা না করে তার ইচ্ছামত জি করাচ্ছেন। এব্যাপারে বড়দল কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ ড. শিহাব উদ্দীন বলেন, ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট এর ততা¡বধানে তদন্ত সম্পন্ন করেই নির্মান কাজ শুরু করেছেন। ভবন ধ্বসের ঝুঁকি থাকলে তারা নির্মান কাজ শুরু করতেন না। এব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের সহকারী প্রকৌশলী এমএমএ আবু জায়েদ বিন গফুর জরাজীর্ণ ভবনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উক্ত ভবনের বাজেট হয়েছে উর্দ্ধমুখি সম্প্রসারণ ভবন নির্মান। কাজেই উর্দ্ধমুখি সম্প্রসারণ কাজের বাইরে কাজ করার কোন সুযোগ থাকে না। তবুও আমরা ভবনের নিচের অংশটি সংস্কার করেছি। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে নির্মান কাজে যদি কোন প্রকার অনিয়ম ও দূর্নীতি হয়ে থাকে তা খতিয়ে দেখে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক, সচেতন মহল ও এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: