আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

দেবহাটা আ’লীগকে সুসংগঠিত, পরিচ্ছন্ন দূর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার সম্পাদক প্রার্থী রফিকুল ইসলামের

দেবহাটা প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে নির্বাাচিত হলে একটি সুসংগঠিত, পরিচ্ছন্ন ও দূর্নীতিমুক্ত দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে সাধারন সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দীতায় অংশ নেয়া সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) একান্ত স্বাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেণ। দীর্ঘ ৭ বছর পর আগামী রবিবার (১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনে সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থীতা ঘোষনা দিয়ে ইতোমধ্যেই কাউন্সিলরসহ তৃনমুল নেতাকর্মীদের কাছে বেশ আলোচনায় এসেছেন আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম। একই পদে রফিকুল ইসলামের বিপরীতে সম্মেলনের মাঠে প্রতিদ্বন্দীতায় রয়েছেন অপর দুই হেভিওয়েট প্রার্থী দুই মেয়াদে টানা পনের বছরের নির্বাচিত বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি ও সাবেক সাধারন সম্পাদক আব্দুর রউফ। ২০১২ সালের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের দীর্ঘ সাত বছর পর আবারো সম্মেলন হতে যাওয়ায় ইতোমধ্যেই উপজেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রানচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সভাপতি পদের পাশাপাশি সাধারন সম্পাদক পদে অংশ নেয়া তিন প্রার্থীকে নিয়ে উপজেলাব্যাপী তৃনমুল নেতাকর্মী ও কাউন্সিলরদের মধ্যে চলেছে চুলচেরা বিশ্লেষন আর আলোচনা-সমালোচনা। নেতাকর্মীদের মাঝে চলমান আলোচনা-সমালোচনাতেও বেশ সাড়া ফেলেছেন সাধারন সম্পাদক প্রার্থী রফিকুল ইসলাম। তিনি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ মুনসুর আহমেদের ভাগ্নে। একান্ত স্বাক্ষাৎকালে আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম বলেন, কৈশর থেকেই রাজনীতিতে অংশগ্রহন আমার। ১৯৭৮ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ি। বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ আমার মামা মুনসুর আহমেদের নেতৃত্বে ১৯৮৮ সালে সকল বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে আমি সহ, প্রবীন আওয়মী রাজনীতিবীদ নুরুল মমিন, এ্যাড সম গোলাম মোস্তফা, কৃষ্ণপদ সরকার, শেখ আব্দুল বারী, আব্দুল ওহাব, গৌর ঘোষ, নিরঞ্জন বাবু, শরৎ ঘোষ, হোসেন বিশ্বাস, আবুল কাশেম মেম্বর, শেখ আব্দুর রউফ, আব্দুল হাই মিলিয়ে ১২-১৫ জন দেবহাটা উপজেলাতে আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করি। এরপর ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে এ্যাড. সম গোলাম মোস্তফা সভাপতি এবং আব্দুর রউফ সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারন সম্পাদক পদে আমি প্রতিদ্বন্দীতা করি। কিন্তু সেবার মনিরুজ্জামান মনি সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। আমি এজন আওয়ামী পরিবারের সন্তান হওয়া স্বত্ত্বেও সম্মেলন পরবর্তী সময় থেকে নিবার্চিত নেতারা অত্যন্ত সুকৌশলে দলীয় কোন পদ না দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে আমাকে দুরে সরিয়ে রাখে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক দক্ষতা বিবেচনা করে আমার অবিভাবক জননেতা মুনসুর আহমেদ ও সাকী সাহেব আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত করেন। ২০১২ সালে দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমি আবারো প্রার্থীতা ঘোষনা দিই। পরে আবারো আমার অবিভাবক মুনসুর আহমেদের কথায় আমি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করি। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, আমি সহ আমার গোটা পরিবার আওয়ামী রাজনীতিতে বিশ্বাসী। বিএনপি-জামায়তের সাথে আমাদের কখনো আত্মীয়তা হয়নি। আমাদের পরিবারে সব মিলিয়ে ৯৩টি ভোট থাকা স্বত্ত্বেও আমি কিংবা আমার পরিবারের কাউকেই উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে রাখেনি ক্ষমতাসীনরা। তারা সব সময় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে চিরস্থায়ী পদ আকড়ে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে। শুধু আমি নয় ২০১২ সালের সর্বশেষ সম্মেলন পরবর্তী কমিটি থেকে অধিকাংশ ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ২০১৩ সালে যারা যারা সহিংসতা ঘটিয়েছে, যারা আওয়ামী লীগের তাজা প্রানগুলো কেড়ে নিয়েছে তাদের অনেকেই এখন আওয়ামী লীগের কিছু নেতাদের ছত্রছায়ায় ঘুরে বেড়ায়। অনেকেই আবার দলে অনুপ্রবেশ করেছে। এর দায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংগঠনের ওপর পড়ে বলেও মন্তব্য করেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১ ডিসেম্বরের সম্মেলনে আমি সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হলে তৃনমুল পর্যায়ের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মুল্যায়নসহ সকলকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী সংগঠন তৈরী করবো। সকল ব্যাক্তি আক্রোশ ও অভ্যন্তরীন কোন্দল নির্মুল করে আওয়ামী পরিবারের মানুষকে সংগঠনে ফিরিয়ে এনে সুসংগঠিত, পরিচ্ছন্ন ও দূর্নীতিমুক্ত দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগ গড়ে তুলবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: