আজ ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পুষ্পকাটি ফারিয়া হত্যার আসামী আলিম সিআইডির হাতে গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্তি: আলোচিত মামলার মোড় এখন ভিন্ন পথে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি::
দেবহাটার পুষ্পকাটিতে ২০১৩ সালের জননেত্রী শেখ হাসিনার কবর রচনাকারী জামাত-বিএনপির ক্যাডার মোকছেদের ধারালো অস্ত্র ফারিয়া সুলতানা তমা হত্যার সন্দেহজনক আসামী সিআইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় এখন স্বস্তির নি:শ্বাস। গত (৬ডিসেম্বর) শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পুষ্পকাটি ভাটা এলাকা থেকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় গ্রেফতার হয় শিশু ফারিয়া হত্যার সন্দেহজনক আসামী একই গ্রামের আফসার গাজী ওরফে ভন্টুর পুত্র আব্দুল আলিম। এসময় তার সাথে থাকা একাধীক মামলার আসামী গোলাম পালিয়ে যায়। উল্লেখ্য যে গত ইং ২০/৯/১৮ তারিখ কুলিয়া ইউনিয়নের পুষ্পকাটি গ্রামের একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় ফারিয়া সুলতানা তমা নামের (০৪) বছরের এক কন্যা শিশুর লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। তার পর থেকে এলাকায় শুরু হয় নানা গুঞ্জন।
সে সময় ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসার জন্য শিশুর পিতা ফরহাদ হোসেন, দাদা আবু সালেক ওরফে সালেক ও ফরহাদ হোসেনের মামা আকরাম সরদারের পুত্র রজব আলী ও আকবর এবং বন্ধু আফসারের পুত্র আব্দুল আলিমকে থানায় নিয়ে এসে রাতভোর জিজ্ঞসাবাদ শেষে তাদেরকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। তারপর শিশুর মা সার্জিনা বেগম বাদি হয়ে ৬ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিল। যার নং-১০/১১৪ তারিখ: ২২/০৯/২০১৮ ইং। বাদী তার মামলার আর্জিতে উল্লেখ করেছিল তার স্বামী ফরহাদ হোসেন কন্যা ফারিহা সুলতানাকে নিয়ে গত ইংরেজি ২০/৯/১৮ তারিখ সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাশ্ববর্তী দোকানে যায়। দোকান থেকে খাবার কিনে বাড়ি ফেরার পথে তার স্বামীকে জিয়ারুল ডেকে কথা বলতে বলতে রজিবুল সরদারের পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট পর ওৎ পেতে থাকা এজাহারের আসামীরা তার উপর হামলা করে এবং গেঞ্জি দিয়ে তার স্বামী ফরহাদ হোসেনের মুখ বেধে মুখে বাঁশের পাতা ঢুকিয়ে দিয়ে অন্য আসামীরা কন্যাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন খোঁজাখুজির পর রজিবুল সরদারের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। তারপর মামালাটি গত আগস্ট ২০১৮ সালে সি আই ডির হাতে চলে যায়। সেসময় এলাকাবাসী ধারনা করেছিল মামলায় উল্লেখিত ফরহাদের মুখ বাধা গেঞ্জিটির ডিএনএ পরীক্ষা করলে হয়তো বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত হত্যার রহস্য। এই মামলায় যাদেরকে আসামী করা হয়েছে তারাই কি প্রকৃত অপরাধী? না কি কাউকে ফাঁসাতে সাজানো এই নাটক করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। তাছাড়া ঘটনার পর থেকে মোকছেদের পুত্র তুহিনের গা ঢাকা দেওয়াটা এবং নিহত শিশু ফারিহার পিতা ফরহাদ হোসেন ওরফে ফরোর জামাত-বিএনপির ক্যাডার মোকছেদের বাড়িতে অবস্থান করার বিষয়ে সে সময়ও জনমনে দেখা দিয়েছিল নানা রকম প্রশ্ন। উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত ঘটনার আগে একটি অস্ত্র মামলায় পুষ্পকাটি গ্রামে কেয়ামদ্দীন গাজীর পুত্র জামাত-বিএনপির ক্যাডার মোকছেদ আলী পুলিশের হাতে আটক হয়। আর এই মামলায় স্বাক্ষী করা হয় পুষ্পকাটি গ্রামের লিয়াকাত আলীর পুত্র রিপন ও শওকাত সরদারের পুত্র নাজমুল হুদাকে। এই ঘটনাটি নিয়ে মোকসেদ গ্রুপের সাথে রিপন ও নাজমুল হুদার বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘদিন। তারই সূত্র ধরে রিপন ও নাজমুল হুদাকে ফাঁসাতে প্রতিবেশি ফরহাদের ৪বছরের শিশু কন্যা ফারিয়া সুলতানা তমাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারনা করছে এলাকাবাসী। অপরদিকে এলাকাবাসীর এখনও ধারণা, নিহত শিশুর পিতা ফরহাদ হোসেন, সদ্য গ্রেফতার হওয়া মামলার আর্জি অনুযায়ী কথিত উদ্ধারকারী আব্দুল আলিম কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে। এদিকে, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তপূর্বক প্রকৃত দোষিদের আইনের দোষিদের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। সাতক্ষীরা সিআইডি অফিসের তদন্ত অফিসার জাকির হোসেন মামলাটি আমরা তদন্ত ভার নেওয়ার পর থেকে তদন্ত অব্যহত আছে। আব্দুল আলিমকে সন্দেহজনক ভাবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আসামীকে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে জানান।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: