আজ ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

জনপ্রতিনিধির টর্চার সেলে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ………. সাতক্ষীরা সীমান্তের কলারোয়ায় জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে ত্রাসের রাজত্ব

জামালউদ্দীন: সাতক্ষীরা সীমান্তের কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি এলাকায় এক জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে মাদক চোরাচালানীর সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। সিন্ডিকেটের প্রধান কেড়াগাছি ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এ জনপ্রতিনিধির রয়েছে টর্চারসেল। মাদক পাচারে সিন্ডিকেটের লোকজনের বিরুদ্ধে কথা বললে অমানুষিক নির্যাতনের খড়গ নামে সাধারণের উপর। এমনই ঘটনার সূত্র ধরে ঐ জনপ্রতিনিধির টর্চার সেলে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১০ জন নীরিহ সাধারণ মানুষ। যারই ধারাবাহিকতায় গত ২১ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় ঐ জনপ্রতিনিধি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রামপুলিশ পাঠিয়ে উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের হবি গাইন এর পুত্র ইমরান হোসেন (৩৩) কে তুলে এনে তার টর্চারসেলে বেধড়ক মারপিট করেছে। যার ফলে বর্তমান ইমরান কলারোয়া হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু মোবাইল ফোনে ইমরানকে মারপিট না করার অনুরোধ জানালেও তার শেষ রক্ষা হয়নি। এঘটনায় কলারোয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে যার মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ। অপরদিকে কেড়াগাছি ইউপি ঐ জনপ্রতিনিধি আফজাল হোসেন হাবিল এর মাদক সিন্ডিকেটের হোতাদের নাম প্রকাশ করতে শুরু করেছে এলাকাবাসী। তারা দিন-রাত ২৪ ঘন্টা সীমান্ত থেকে যোগসাজশে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সহ বিভিন্ন পন্য চোরাচালানী করে থাকে। দিনের আলোর মধ্যেও কৃষকের সবজি ক্ষেত মাড়িয়ে চোরাচালানি কাজে যুক্ত থাকাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই ডাক পড়ে চেয়ারম্যানের টর্চারসেলে। আর এ টর্চারসেল ও সিন্ডিকেট হোতাদের অনুসন্ধান করতেই বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চেয়ারম্যানের সেকেন্ড ইন কমান্ড বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত নিছার আলীর পুত্র আনার আলী সরদার, একই গ্রামের মুনসুর আলীর পুত্র আরিফুল, মৃত মোকবুল গাজীর পুত্র আলামিন গাজী, মৃত রহিম বিশ্বাসের পুত্র বড় খোকা বিশ্বাস, খায়ের গাজীর পুত্র সাদ্দাম গাজী, কলেজপড়ুয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার পল্টু, উজ্জ্বল সরদার, ঝাপাঘাটা গাবতলা এলাকার রশীর ময়রার পুত্র পলাশ ছাড়া একাধিক সিন্ডিকেটের হোতারা এলাকায় ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করেছে। চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মাদক চোরাচালান থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি, টেন্ডারবাজি সহ নানা অপকর্ম চালিয়ে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সাধারণ মানুষ ভীত ও সন্ত্রস্থ। এলাকাবাসীর দাবী অচিরেই চেয়ারম্যান সহ মাদক, চোরাকারবারী ও সমাজবিরোধী কর্মকান্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন। এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিলের সেলফোনে যোগাযোগ করার চেষ্ট করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: