আজ ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শামসুদ্দোহা ও ফাতেমার দায়িত্ব নিতে চান না পিতা ওবায়দুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: জিএম শামসুদ্দোহা এবং ওসাবিন সাদ আল ফাতেমা। দুই ভাই বোন। পিতার আদর-স্নেহ বঞ্চিত হয়ে নানার বাড়িতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। তাদের মাতা শামসুন্নাহার ঊষা দুই ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। তাদের দুই ভাই বোনের খরচ বহন করার জন্য তাদের পিতা ওবায়দুল ইসলাম একটি টাকাও তাদের যোগান না দেয়ায় পড়াশুনা বন্ধ হতে চলেছে। মেধাবী ছাত্র জিএম শামসুদ্দোহা এবার সপ্তম শ্রেণীতে উঠেছে। আর তার বোন ফাতেমা প্রাথমিক বিদ্যালয় মেধার স্বাক্ষর রেখেছে।
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের দাউদ সরদারের পুত্র ওবায়দুল ইসলাম সাতক্ষীরা শহরের উত্তর কাটিয়া গ্রামের আলহাজ্ব সুরাত আলীর একমাত্র মেয়ে শামসুন্নাহার উষাকে ২০০৬ সালে বিয়ে করেন। তার সাথে ঊষা সুখে শান্তিতে সংসার করছিলেন। তাদের ছয় বছরের দাম্পত্য জীবনে সংসার জুড়ে আসে এক ছেলে জিএম শামসুদ্দোহা ও মেয়ে ওসাবিন সাদ আল ফাতেমা। এরই মধ্যে পরকীয়া প্রেমে পড়ে উষার স্বামী ওবায়দুল ইসলাম। একই সাথে ওবায়দুল ইসলাম শ্বশুরের জমিজমা হাতিয়ে নেবার চেষ্টা করেন। সাতক্ষীরা জজ কোর্টের একজন আইনজীবীর সহায়তায় নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তার শ্বশুরের সমুদয় সম্পত্তি ১৩ লাখ টাকার একটি জাল কাগজপত্র তৈরি করেন। দখল করার চেষ্টা করেন শ্বশুরের সকল জমিজমা ঘরবাড়ি। শুরু হয় শ্বশুরবাড়ির সাথে তার সম্পর্র্কের অবনতি। ওবায়দুল ইসলামের নামে মামলা করে তার শশুর আলহাজ্ব সুরাত আলী। একারণে উষার জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। ঊষাকে তালাক দিয়ে ওবায়দুল ইসলাম ঘর বাঁধেন অন্য এক নারীর সাথে। এরপর থেকেই ছেলে জিএম শামসুদ্দোহা ও মেয়ে ওসাবিন সাদ আল ফাতেমার জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। তখন থেকেই তারা নানার বাড়িতে মায়ের কাছে থেকে লেখাপড়া শিখতে থাকে। টাকার অভাবে এখন তাদের লেখা পড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হতে চলেছে। এই দুই ভাইবোন তাদের পিতৃ অধিকার ফিরে পেতে চায়। কিন্তু ওবায়দুল ইসলাম কোনভাবেই তাদের দায়দায়িত্ব নিতে চান না। তিনি এখন এই দুই ছেলেমেয়ের ধরাছোয়ার বাইরে থেকে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে অন্যত্র জীবন যাপন করছেন।
উল্লেখ্য, ওবায়দুল ইসলাম একই ভাবে জাল জালিয়াতি করে তার নওয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল মাজেদের আশাশুনি থানার সাতক্ষীরা জেলার নোয়াপাড়া মৌজার খতিয়ান নং- ৭০ ও ১৭৫ (এসএ) জেএল নং- ৫৭-এ ১৭৭/৬২-৬৩ এলএ ৮৪২, ৬৮১-৬৮৪ এবং ৬৬৫-৬৬৮, ৬৭০-৬৭২, ৬৭৪, ৬৭৭-৬৮৩, ৬৭৫, ৬৯৮, ৬৮৪-৬৯৭ দাগের ৫০ শতক জমি দখল করে নিয়েছেন। তাতে মোটা অংকের টাকার নিয়ে সহযোগিতা করেন বুধহাটা ইউনিয়নের সদস্য রবিউল ইসলাম ও ওয়ার্ড পুলিশিং কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: