আজ ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

আশাশুনিতে ভালোবাসার প্রস্তাব দেওয়ায়/লাশ মিলল খুলনার ট্রেন লাইনে

বিশেষ প্রতিনিধি: আশাশুনিতে কলেজ ছাত্রীকে ভালবাসার প্রস্তাব দেওয়ায় লাশ মিলল খুলনায় ট্রেন লাইনে। শনিবার সন্ধ্যায় খুলনা রেলওয়ে থানার পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। মৃতের নাম শুভজিৎ সানা (১৯)। সে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের গজুয়াকাটি গ্রামের ভবতোষ সানার পুত্র ও বড়দল কলেজিয়েট স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।ভবতোষ সানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন আমার ছেলেকে নিশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে বাড়ি থেকে ২০টাকা নিয়ে কলেজে যায়। যাওয়ার সময় ৮টাকা ভ্যান ভাড়া দিয়ে যায়। লাশ হয়ে বাড়ি নিয়ে আসার পরেও তার প্যান্টের পকেটে এখনো সেই ১২ টাকা আছে। আমার ছেলেকে হত্যা করেছে রিয়ার বাবা হেমন্ত মন্ডল। আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।গজুয়াকাটি গ্রামের কৃষ্ণপদ সানা জানান, তার কাকার ছেলে শুভজিৎ সানা বড়দল কলেজিয়েট স্কুলের বানিজ্য বিভাগে দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াশুনা করে। ফকরাবাদ গ্রামের হেমন্ত মণ্ডলের মেয়ে বড়দল কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রীর রিয়া মণ্ডলকে সে কয়েকদিন আগে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। রিয়া প্রেমের প্রস্তাব মেনে নেয়নি।বড়দল কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক ও শুভজিতের মাসতুতো ভাই মনীষ মণ্ডল বলেন, শনিবার সকাল ১১টার দিকে কলেজের দোতলার সিঁড়িতে রিয়াকে ডেকে নিয়ে আবারো প্রেমের প্রস্তাব দেয় শুভজিৎ। রিয়া আবারো প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শুভজিৎ ব্লেড দিয়ে নিজের হাতের কয়েকটি জায়গায় কেটে ফেলে। বিষয়টি জানতে পেরে বড়দল কলেজিয়েটের অধ্যক্ষ মোঃ শিহাবউদ্দীনকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবহিত করা হয়। তার পরামর্শ মত শুভজিতকে বাড়িতে পাঠানোর জন্য দুপুর ১২টার দিকে একটি ভ্যানে তুলে দেন। এরপর সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। শনিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে খুলনা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভজিতের বউদির মোবাইল ফোনে ট্রেনে কাটা বিষয়টি অবহিত করেন। খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে রোববার বিকাল ৪ টার দিকে শুভজিতের লাশ তার ফুফাত ভাই বিজন মণ্ডলের হাতে তুলে দেওয়া হয়। লাশের গলায় আংশিক চামড়া লাগানো ছিল, দু’ পা বিচ্ছিন্ন ও পেটের নাড়ি ভুড়ি বের করা অবস্থায় ছিল। তবে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সন্ধ্যার পর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। শুভজিতের বড় ভাই অনুপম সানা জানান, তিনি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভারতের কর্ণাটক থেকে ভাই এর মোবাইল ফোনে রিং দিলে অপর প্রান্ত থেকে একজন বলেন, সে মারা গেছে। অথচ তার মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা গেল না। তিনি আশঙ্কা করছেন রিয়ার বাবা ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার বিকেলে তাদের গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য দেবব্রত সরকারের বাড়িতে এসে শুভজিৎ কে হুশিয়ারী দিয়ে গেছেন। তিনি আরো আশঙ্কা করছেন রিয়ার বাবা লোকজন দিয়ে শুভজিতকে অপহরণ করিয়ে হত্যার পর লাশ খুলনার ট্রেন লাইনে ফেলে দিয়েছে। শুভজিতের লাশ সোমাবার দুপুরে স্থানীয় শ্মশানে দাফন করা হবে। বড়দল কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ শিহাবুদ্দীন বলেন, শুভজিৎ এক বছর আগেও মাদিয়ার একটি ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকার এক শিক্ষককে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে শনিবার কলেজ থেকে বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল শুভজিতের। পরবর্তীতে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে রোববার কলেজ ছুটি দিয়ে সকল শিক্ষকগণ তার বাড়িতে গিয়েছিলেন। ফকরাবাদ গ্রামের হেমন্ত মণ্ডল বলেন, তার মেয়েকে উত্যক্ত করার বিষয়টি গজুয়াকাটি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য দেবব্রত মন্ডল এর মাধ্যমে শুভজিতের বাবা ও মাকে সতর্ক করা হয়। শুভজিত কিভাবে মারা গিয়েছে এটা তাদের জানার কথা নয়।খুলনা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফয়জুর রহমান বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় নিউমার্কেট গোরস্থান এলকায় ট্রেনে কাটা একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃতের ব্যাগে থাকা একটি নোট বুক থেকে নম্বর পেয়ে তার বাড়িতে জানানো হয়। এ ঘটনায় রেলওয়ে থানায় শনিবার একটি অপমৃত্যু(২নং) মামলা হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যা হলে নতুন মামলা নেওয়া হবে।আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, বিষয়টি ভাল করে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যা নিশ্চিত হলে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে শুভজিতের পরিবারকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: