আজ ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

দেবহাটার ফারুকের ফাঁদে পড়ে হয়রানীর শিকার ব্যবসায়ী মহাসিন

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটার চন্ডীপুরের মৃত কাশেম আলীর ছেলে ফারুকের ফাঁদে পড়ে চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছেন ভোমরার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আমিনিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধীকারী মহাসিন কবির। শুধু হয়রানী নয়, ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি এবং ফারুকের মিথ্যা অপপ্রচারে সম্মানহানীও হয়েছে ব্যবসায়ী মহাসিন ও তার পরিবারের। মহাসিন কবির সদর উপজেলার শাঁখরা গ্রামের মসজিদের ইমাম মোশারফ হোসেনের ছেলে। মহাসিন জানান, তার দুই ভাই সাইফুল আলম ও বদরুল আলম বিদেশ প্রবাসী। ফলে বরাবরই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল তার পরিবার। রয়েছে একাধিক মৎস্য ঘের ও মাঝারি পরিসরের ব্যবসা। প্রবাসী দুই ভাইয়ের পাঠানো অর্থে ২০১২ সালে ভোমরায় আমিনিয়া মার্কেট তৈরী করে তার পরিবার। ২০১২ সাল থেকেই পড়াশুনার জন্য ঢাকাতে অবস্থান করতো মহাসিন। ২০১৭ সালে ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজি থেকে এমবিএ পাশ করে এলাকায় ফিরে আসেন তিনি। উদ্যোগ নেন নিজের ব্যবসা শুরু করার। প্রবাসী দুই ভাই ও মামা সহ অন্যান্য আত্মীয়দের থেকে টাকা নিয়ে ২০১৮ সালে শুরু করেন আমিনিয়া এন্টারপ্রাইজ নামের নিজের প্রতিষ্ঠানে পেঁয়াজ ও পাথরের ব্যবসা। ব্যবসার জন্য বৈধ পাসপোর্টে মাসের প্রায় অর্ধেক সময় ভারতে অবস্থান করতে হতো তাকে। ফলে ভোমরার অংশে ব্যবসা দেখাশুনার জন্য কাজে রাখেন দেবহাটার চন্ডীপুর গ্রামের মৃত কাশেম আলীর ছেলে ফারুক হোসেনকে। এরই মধ্যে মহাসিনের কাছে বেশ বিশ্বস্থ হয়ে ওঠে ফারুক। বিভিন্ন সময়ে মহাসিন ভারত থেকে দেঁড় কোটি টাকার বেশী মুল্যের মালামাল পাঠান ফারুকের কাছে। একপর্যায়ে সেসব মালামাল বিক্রি করে মহাসিনকে তার হিসাব বুঝিয়ে না দিয়ে বেশ মোটা অংকের টাকা নিয়ে চম্পট দেয় ফারুক। পরবর্তীতে মহাসিন ফারুকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফারুক উল্টো আট লক্ষাধিক টাকা পাওনা দাবী করে দেবহাটা থানায় মহাসিনের নামে হয়রানী মুলোক একটি অভিযোগ দায়ের করে। দেবহাটা থানা পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত ও উভয় পক্ষের বিবাদমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সাতক্ষীরা সদর থানায় প্রেরন করলে গত শুক্রবার (২৪ জানুয়ারী) দুপক্ষের উপস্থিতিতে সদর থানায় শালিস অনুষ্ঠিত হয়। শালিসে ব্যবসায়িক খাতাপত্র দুপক্ষের অভিযোগ পর্যালোচনা করা হলেও, সময়ের মধ্যে বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়ায় আগামী শুক্রবার (৩১ জানুয়ারী) আবারো শালিসের দিন ধার্য্য করা হয়। এদিকে মহাসিনের ব্যবসার হিসাবে ফারুকের গরমিল ধরা পড়ার ভয়ে শালিসের ধার্য্য দিনের আগেই মহাসিনকে বেকায়দায় ফেলতে ষড়যন্ত্র করতে শুরু করে ফারুক। গত শনিবার (২৫ জানুয়ারী) ফারুক সাংবাদিকদের মিথ্য তথ্য দিয়ে পত্রপত্রিকায় মহাসিনের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশ করায়। সংবাদটিতে হুন্ডি ব্যবসায়ী, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে তার ও পরিবারের অন্যান্যদের সম্মানহানী করা হয়েছে বলে দাবি মহাসিনের। পাশাপাশি প্রতারনার ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত পরবর্তী প্রতারক ফারুকের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ব্যবসায়ী মহাসিন। 

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: