আজ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

থেমে নেই শান্তর চোরাচালান মাদক ও হুন্ডি ব্যবসা এখন খালিদ বেভারেজ ও শতাধিক জমির মালিক

জাহাঙ্গীর আলম কবীর: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থল বন্দর ভোমরা এখনও নিন্ত্রয়ণ করে শীর্ষ চোরাকারবারী খালিদ হাসান শান্ত। মাত্র ৫ বছরেই রাতারাতিই কোটিপতি বনে গেছে তিনি। গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি চোরাকারবারি, মুদ্রা পাচারকারী ও হুন্ডি ব্যবসায়ীর তালিকায় তিনি শীর্ষ চোরাকারবারী, মাদক ও হুন্ডি ব্যবসায়ী। কিন্তু বরাবরই রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন আগের মতোই তার ব্যবসা। তার অবৈধ পন্থায় অর্জিত টাকায় যশোরের শার্শা উপজেলার কুচেমোড়া মোড়ে গড়ে তুলেছেন খালিদ বেভারেজ প্রাইভেট লিমিটেড। যদুনাথপুর মৌজায় কিনেছেন শতাধিক বিঘে জমি।
এই খালিদ বেভারেজ প্রাইভেট লিমিটেডের ভেতরে প্রশস্ত জায়গা, বিশাল গুদাম, যন্ত্রপাতি শূণ্য কারখানা, বালাখানা, বালাখানায় লাগানো অসংখ্য ঝাড়বাতি, রঙিন আলো। নিজের অবস্থান আড়াল করতে ইসলামী ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখায় দায়বদ্ধ সাইন বোর্ড দিয়েছে খালিদ বেভারেজ প্রাইভেট লিমিটেড মূল ফটকে। মেঠো রাস্তা দখল করে খালিদ বেভারেজ প্রাইভেট লিমিটেডের এই ফটকের সামনে সড়ক-দ্বীপ তৈরি করে ফুলের বাগান করেছেন। পানি নিস্কাশনের কালর্ভাট বন্ধ করে তৈরি করা হয়েছে এই ফ্যাক্টরীর গুদাম। দেয়া হয়েছে প্রাচীর। ফ্যাক্টরীর পিছনে রাস্তার পাশে পুকুর কেটে ভরাট করা হয়েছে ফ্যাক্টরীর জায়গা। এতে ভেঙে যাচ্ছে যদুনাথপুর গ্রামবাসীর চলাচলের মেঠো রাস্তা। আবার রাস্তা খাঁড়া উঁচু করায় পাশের বাড়িগুলোর মানুষ ওঠানামা করতে পারছে না। মোটর সাইকেল কেন একটা সাইকেলও তোলাফেলা কষ্ট সাধ্য হয়ে গেছে। সাতক্ষীরা-নাভারণ মহাসড়কের কুচেমোড়া মোড় থেকে পূর্বদিকে খালিদ বেভারেজ প্রাইভেট লিমিটেডে ঢোকার সিকি কিলোমটার সর্বসাধারণের ব্যবহার্য এই মেঠো রাস্তার দু’পাশ কোথাও দু’ফুট কোথাও তিন ফুট উঁচু করে বেধে রাস্তার দু’পাশ বরাবর একটা প্রমাণ সাইজের স্টীলের খুঁটির পর একটা অর্ধেক সাইজের স্টীলের খুঁটি বসানো হয়েছে। খুঁটিগুলোকে সাজানো হয়েছে সিঙ্গাপুর স্টাইলে বিলাশবহুল বৈদ্যুতিক নানা রকম আলোয়। একই সাথে খালিদ বেভারেজ প্রাইভেট লিমিটেডের জন্য মহাসড়কের কুচেমোড়া মোড়ের পশ্চিম পাশে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে পুলিশ বক্স। মেঝে ও দেয়ালে দেয়ালে রঙিন টাইলসের ঝলকানি। এই বক্সের ভেতরে ফ্যাক্টরী কর্তৃপক্ষ তৈরি করে দিয়েছেন মনোরম একটি কক্ষ। এখানে রয়েছে আধুনিক বিনোদনের সব রকমের ব্যবস্থা।
গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চোরাকারবার, হুন্ডি ব্যবসায়, মুদ্রা পাচার ব্যবসায় তিনি এখনো সবচেয়ে বেশী সক্রিয়। তিনি এক সময়কার ‘টি-বয়’ খালিদ এন্টারপ্রাইজ, সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ ও আলেয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী। ভোটার তালিকায় তার নাম মোঃ খালিদ হাসান (সান্টু)। তার বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশি ইউনিয়নের পানবুড়ি গ্রামে। ভোমরার সবাই তাকে ‘টি-বয় শান্ত’ বলেই চেনেন। কাস্টমস এর দুর্র্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে শান্ত করেন বিনোদনের ব্যবস্থা। বসান নাচ ও নেশার আসর। সাতক্ষীরার বাইপাসে ভাড়া থাকা বৃষ্টি, পিটিআই রোডের মায়া, চুকনগরের পাখি, পায়েল ও নিতু, ফরিদপুরের সোনিয়া, পাটকেলঘাটা ব্রীজের নিচে বসবাস করা চাঁদনী, পুতুল, সুমি ও অহি, কপিলমুনির নদী ও মুক্তা, কলারোয়ার শীলা ও লাবণ্য, ঘোনার কবিতা ও সুমি, মুছা মসজিদের পাশে ভাড়া থাকা লিলি, নগরঘাটার নিতু, বাঁকালের টুম্পা, পুরাতন সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসা এলাকার লামিয়া, পাপিয়া এবং আমতলা মোড়ে ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে ভাড়া থাকা পিংকিকে (প্রিয়াংকা পিংকি) দিয়ে খালিদ হাসান শান্ত নাচের আসরে নাচিয়ে থাকেন। এদের দিয়ে শান্ত ডিজে এবং রুম ডেথ প্রোগ্রাম করান। ডিজে ও ডেথ প্রোগ্রাম হয় স্থানীয় একটি গার্ডেনের ভিআইপি রুম নং- ২০১, ২০১ ও ২০৩ রুমে। এভাবেই তিনি সবাইকে মনোরঞ্জন করে ভোমরা স্থলবন্দরে খালিদ এন্টারপ্রাইজ, সুমাইয়া এন্টাপ্রইজ ও আলেয়া এন্টারপ্রাইজের অন্তরালে অবৈধ টাকার পাহাড় গড়ে তুলছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: