আজ ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সাতক্ষীরায় ম-ম ঘ্রানে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল: ভালো ফলনের হাতছানি

মিছিল ডেস্ক:

সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে ম-ম ঘ্রাণে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল। জানান দিচ্ছে পরিপুষ্ট আমের ফলনের আর স্বাদে তৃপ্তির ছোঁয়ার।
চারদিকের আমের মুকুলের সুবাসে আন্দোলিত করে তুলছে মানুষের মন।আমের পাশাপাশি কাঁঠালসহ গরমকালের বাহারি হরেক রকমের সুস্বাদু ফলের ফলনের হাতছানি দৃশ্যমান সাতক্ষীরা জেলার সবুজ প্রকৃতির মাঝে।একই সুতোয় গাঁথা শুরু হয়েছে বসন্তের ফাগুন আর আমের মুকুল।

ইতিমধ্যে সদ্য মুকুল ফোটার এমন দৃশ্য এখন বিস্তৃত সাতক্ষীরার বিভিন্ন শহর ও গ্রামীণ জনপদে।জাতীয় অর্থনীতিতে আম লাভজনক মৌসুমি ফল ব্যবসা হওয়ায় প্রতিবছরই বাগানের সংখ্যা বাড়ছে। গড়ে ওঠছে নতুন নতুন জাতের আমবাগান। বিশেষ করে ল্যাংড়া, হিমসাগর গোপালভোগ, আম্রপালী, ক্ষিরসাপাত, আশ্বিনা সহ নানান জাতের হাইব্রিড গাছই বেশি হচ্ছে।সাতক্ষীরার আম ইতিমধ্যে দেশজুড়ে প্রসিদ্ধ হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে সাতক্ষীরার আম। এমনকি গত কয়েক বছর ধরে ইউরোপসহ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে সাতক্ষীরার আম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সাতক্ষীরার প্রান্তিক এলাকাজুড়ে আম চাষাবাদে সম্পৃক্ত হচ্ছেন অনেকে।অনেকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মুকুল আসার আগেই গাছের আম কিনে নেন। এক মৌসুমের পাশাপাশি কয়েক মৌসুমের জন্য অর্থাৎ একাধিক বছরের অন্য আম গাছ কেনেন। আবার অনেকে গাছের আম দেখে বা মুকুল কিংবা গুটি আম দেখে গাছভর্তি আম কিনে থাকেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এখানে আম ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন।আম ব্যবসায়ীরা জানান, মাঘের শেষে আম গাছে মুকুল আসে। কিছুক্ষেত্রে পৌষের শেষেও আগাম মুকুল আসে। নিয়মিত পরিচর্যায় পরবর্তীতে ছোটছোট আম বা গুটি আম ফলন হয়। বৈশাখ মাসে বা তার আগে-পরেও আম খাওয়ার উপযোগী হয়।মুকুলের আধিপত্যে আম গাছ দেখে আমচাষিরা আশার আলো দেখছেন। প্রতিদিনই চলছে স্প্রেসহ অন্যান্য পরিচর্যা। আমগাছের গোড়ায় মাটি দিয়ে উঁচু করে দেয়া হচ্ছে সেচ।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পুরোপুরিভাবে শীত বিদায়ের আগেই আমের মুকুল আসা ভালো নয়। হঠাৎ ঘন কুয়াশা পড়লেই আগেভাগে আসা মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা ফলনেও প্রভাব ফেলবে।
যদিও প্রাকৃতিক নিয়মে ফাগুন মাসে ঘন কুয়াশার আশঙ্কা খুবই কম। এর পরও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতি বিরূপ আচরণ করলে আমের মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
আবার মাঝে মধ্যে ঘনকুয়াশা পড়লেও মুকুলের ক্ষতি হতে পারে।

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: