আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে মারপিট, আসবাবপত্র ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর : বর্তমান-সাবেক চেয়ারম্যানের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটার কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে একটি অনৈতিক কর্মকান্ডের শালিসকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাংচুর সহ প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলামকে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার আগ মুহুর্তে অফিস কক্ষে বসে অনৈতিক কর্মকান্ডের একটি বিষয়ে শালিস করছিলেন কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম। মারপিট ও ভাংচুরের খবর পেয়ে ১২ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরীনের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌছায় দেবহাটা থানা পুলিশের সদস্যরা। এসময় প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলামকে বেশ আহত ও তার পরনের জামা কাপড় ছেড়া অবস্থায় দেখা যায়। পাশাপাশি দেখা যায় চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষটির ভাংচুরকৃত চেয়ার টেবিল সহ অন্যান্য আসবাবপত্র ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে। একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার তার ইউনিয়নের বহেরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি অনৈতিক কর্মকান্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত বহেরা গ্রামের জোনাব আলীর ছেলে রেজাউলকে বুধবার সকালে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য রওনাক উল ইসলাম রিপন তার কার্যালয়ে নিয়ে আসলে বিষয়টি নিয়ে শালিসে বসেন তিনি। একপর্যায়ে অভিযুক্ত রেজাউলকে মুচলেকা দিতে বলেন বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম। শালিসের শেষের দিকে কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির কোষাধ্যক্ষ আসাদুল হকের ভাইপো রিয়াজুল ইসলাম বাবু শালিসটি সুষ্ঠ হয়নি দাবী করে হট্টগোল সৃষ্টি ও গালিগালাজ করতে থাকেন। সেসময়ে ইউনিয়ন পরিষদের মুল গেটের সামনেই নাকি দাড়িয়ে ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুল হক, তার ছেলে শাওন, ভাইপো সুজাল, দীনেশ সহ বেশ কিছু লোকজন। একপর্যায়ে আসাদুল হকের ছেলে শাওন, ভাইপো রিয়াজুল ইসলাম বাবু, সুজাল ও দীনেশ সহ অন্যান্য লোকজন চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে আসবাবপত্র ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর সহ তাকে টানাহেচড়া ও মারপিট করে বলেও দাবী করেন বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম। এদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলামের সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির কোষাধ্যক্ষ আসাদুল হক বলেন, পুরো ঘটনাটিকে নাটকীয় ভাবে সাজিয়েছেন প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম। তার দাবী দীর্ঘদিন ধরে বহেরা প্রাইমারী স্কুল সংলঘ্ন এলাকায় অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলো অভিযুক্ত রেজাউল ইসলাম নামের যুবকটি। এতে করে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। এর আগেও একাধিকবার ধরা পড়ে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পেয়েছে সে। সর্বশেষ মঙ্গলবার সে আবারো নারী সহ ধরা পড়লে বুধবার শালিসে তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আবারো কেবল মুচলেকার মাধ্যমে তাকে রেহাই করছিলো প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম। এসময় তার ভাইপো রিয়াজুল ইসলাম বাবু সহ উপস্থিত অন্যান্যরা প্রতিবাদ জানালে প্যানেল চেয়ারম্যানের নির্দেশে বাকিবিল্লাহ, নাজমুল হুদা, চাকমা সহ বেশ কয়েকজন তার ভাইপো রিয়াজুল ইসলাম বাবুকে মারপিট করে। একপর্যায়ে তাকে ছাড়িয়ে আনার পর অফিস কক্ষের দরজা লাগিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানের লোকজন অফিসের আসবাবপত্র ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করে। পরবর্তীতে সেই ভাংচুরের দায় পরিকল্পিতভাবে তার ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবী করেন সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুল হক। দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, এঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি, অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাজিয়া আফরীন বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত ও দুঃখজনক। বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: