আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সাতক্ষীরায় পেনাল কোডের প্রেস ব্রিফিং সাতক্ষীরা-তালায় মাষ্টারপ্লান করে নিজের স্ত্রী(রত্না)কে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার !

মোঃ আকবর হোসেন,তালাঃ সাতক্ষীরা তালা থানা পুলিশের সাড়াসী অভিযান ও অনুসন্ধানী তদন্তে তালা সদরের মোবারকপুরস্থ ভাড়া বাসায় অগ্নিদগ্ধ বিউটিশিয়ান ফারহানা আক্তার রত্না হত্যাকান্ডে বেড়ীরে এসেছে চাঞ্চচাল্যকর তথ্য। তালা থানা পুলিশের হাতে আটক নিহতের স্বামী কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের খাস মথুরামপুরের আব্দুস সাত্তারের ছেলে হাসিবুর রহমান সবুজ মাষ্টার প্লান করে পেট্রোল দিয়ে নিজের স্ত্রীকে নিঃসংশভাবে হত্যার প্রেস ব্রিফিং করেছেন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার।

তালা থানার মামলা নং-১০, তারিখ-২৪/০২/২০২০খ্রিঃ, ধারা-৪৪৮/৩২৬/৩০৭/৪২৭/৩৪ পরবর্তীতে সংযোজিত ধারা-৩০২ পেনাল কোড সংক্রান্তে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মুস্তাফিজুর রহমান জানান,মামলায় আসামী হিসেবে নিহতের স্বামী হাসিবুর রহমানকে গত ৭ মার্চ বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে তালা উপজেলার মোবারকপুর ভাড়া বাসার সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে হাসিবুর জানায়, সে মেরিকো বাংলাদেশ লিমিটেড এর একজন কর্মী। ২০১৯ সালে ভিকটিম ফারহানা আক্তার রত্নার সাথে তার পরিচয় হয়। ঐ বৎসর নভেম্বর মাসে তারা বিয়ে করেন। ভিকটিম রত্নার এরআগে আরো দু’বার বিয়ে হয়েছিল। দ্বিতীয় স্বামী মোঃ মিজানুর রহমানের সাথে তার ১০/১২ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের ৮ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

২য় স্বামী মোঃ মিজানুর রহমানের সাথে রত্নার ৩/৪ টি মামলা চলমান আছে। ভিকটিম প্রায়ই তার বর্তমান স্বামী মোঃ হাসিবুর রহমান সবুজকে পূর্বের স্বামী মোঃ মিজানুর রহমানের প্রতি প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বলত। কখনো র‌্যাব দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য আবার কখনো পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলিত। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় স্বামী/স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ, মনোমালিন্য সৃষ্টি হতো। ভিকটিম তার দ্বিতীয় স্বামী মোঃ মিজানুর রহমানের দোকান ঘর পুড়াইয়া দেওয়ার জন্য আসামী হাসিবুর রহমান সবুজকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে তালা বাজার হতে ৩ লিটার পেট্রোল কিনে বাসায় নিয়ে আসে। তখন থেকেই ভিকটিম রত্না অস্থির হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আসামী হাসিবুর রহমান সবুজ বাসার বাইরে চলে যায়। এরপর রাত ১.৫ টার দিকে (২১/০২/২০২০) সবুজ বাসায় ফিরে আসে। এসময় রত্না অস্থির হয়ে সারা ঘর পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে চায়। এক পর্যায়ে ঘরে বোতল থেকে পেট্রোল নিয়ে ছিটাছিটি শুরু করে। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বর্তমান স্বামী আসামী হাসিবুর রহমান সবুজ টেবিলের উপরে থাকা দিয়াশলাইয়ের কাটি দিয়া আগুন জ্বালিয়ে ছুড়ে মেরে ঘর থেকে বাইরে চলে যায়।
সঙ্গে সঙ্গে ফারহানা আক্তার রত্নার শরীরসহ ঘরের আসবাবপত্র আগুন ধরে গেলে সে টিউবওয়েলের নিকট ছুটে আসে। এসময় তার চিৎকারে লোকজন ছুটে এসে ভিকটিমকে উদ্ধার করে প্রথমে তালা সরকারী হাসপাতাল ও পরে পরিস্থিতি খারাপ হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। ঐ দিনই তাকে ঢাকা মেডিকেলে বার্ন ইউনিটে নিয়ে ভর্তি করে। ঢাকা মেডিকেল ১৩ তিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ইং-৪ মার্চ ভিকটিম ফারহানা আক্তার রত্নার মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য যে, বিষয়টি স্বামী ও স্ত্রী ২জন মিলে ঘটালেও নিহত ফারহানা আক্তার রত্নার পিতা মোঃ রোকন উদ্দীন সরদার (৫০) গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তালা থানায় এজাহারে তার মেয়ে ভিকটিম রত্নার পূর্বের স্বামী মোঃ মিজানুর রহমান শেখ (৩৫), পিতা-সোহরাব হোসেন শেখ, সাং-মালতিয়া (চারাবটতলা), থানা-ডুমুরিয়া, জেলা-খুলনা সহ ৪ জন এর নামে তালা থানায় মামলা নং-১০। তারিখ-২৪/২/২০।
তবে তালা থানা পুলিশের ওসি মেহেদী রাসেল এর সন্দেহ হলে তিনি অধিকতর তদন্ত ও অনুসন্ধানী কাজে লেগে যান। পরে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এর পর গ্রেফতারকৃত আসামী হাসিবুর রহমান সবুজকে ৮ মার্চ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি গ্রহনের আবেদন জানাইয়া বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামী হাসিবুর রহমান সবুজ নিজেকে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আছে বিধায় সাতক্ষীরা বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম এর ৩য় আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

এ বিষয়ে তালা থানা অফিসার্স ইনচার্জ বলেন, আমি সবসময় সর্বাত্তকভাবে চেষ্টা করি, কোন নিদোষ ব্যক্তি যেন সাজা না পাই। সেই আলোকে অধিকতর তদন্ত ও অনুসন্ধান করে প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটন করতে সক্ষম হই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: