আজ ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ঝুরঝুরিয়া নদী দখল করে প্রভাবশালীদের মৎস্য ঘের কালীগঞ্জ ইউএনও’র উচ্ছেদ নোটিশ মানছে না তারা

জাহাঙ্গীর আলম কবীর: নদীর পানি বিক্রি হয়। বিক্রি করেন গেটম্যানরা। কেনা পানি দিয়ে চিংড়ি চাষ করেন ঘের মালিকরা। আবার নদীকে ভাগ করে নিয়েছেন ৯ গ্রামের প্রভাবশালীরা। ১শ’ হাত অন্তর অন্তর নদীর বুকে নেট পাটা দিয়ে এলাকার নিয়ম মেনেই ভাগ করেছেন তারা। মিলেমিশে মাছ চাষ করছেন এখানেই। উচ্ছেদ নোটিশ দিয়েও অসহায় নির্বাহী অফিসার।
নদীটির নাম ঝুরঝুরিয়া। ঝুরঝুরে না হলেও ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এর সরীসৃপ শরীর। এঁকেবেঁকে ছুঁয়ে গেছে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর, রামনগর, শংকরপুর, রঘুনাথপুর এবং কাশিমাড়ী ইউনিয়নের শংকরকাটি,  গোবিন্দপুর, আটুলিয়া, গোদাড়া ও জয়নগর গ্রাম। কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা এবং কাশিমাড়ী শ্যামনগর উপজেলায় অবস্থিত। আর ঝুরঝুরিয়া কাকশিয়ালী নদী থেকে শুরু হয় মিশে গেছে খোলপেটুয়া নদীতে।
ঝুরঝুরিয়ার কাকশিয়ালী প্রান্তে ডাগরখালি সুইচগেট এবং খোলপেটুয়া প্রান্তে নওয়াবেকী সুইচগেট। পানি উন্নয়ন বোর্ড এই গেট নির্মাণ করলেও এখন নেই নিয়োগকৃত কোন গেটম্যান। তাদের মৌখিক অনুমতি সাপেক্ষে এ দুটোর কপাট ওঠানামা করেন পাবলিক গেটম্যানরা। বিনিময়ে বোর্ডের এসও পান সেলামী। আর ঘের মালিকদের কাছে গেটম্যানরা বিক্রি করেন ঝুরঝুরিয়ার লবণাক্ত পানি। পানির বিনিময়ে বিঘা প্রতি অবস্থান ভেদে নেন একশ’ থেকে পাঁচশ’ টাকা। কত টাকা আদায় হয় তা কেউ জানেন না। জানেন শুধুমাত্র পাবলিক গেটম্যানরা। এরা ইচ্ছেমতো গেট খোলেন, বন্ধ করেন। বর্ষার সময় গেট বন্ধ রাখেন। ডুবে যায় ৯ গ্রামের মানুষ। অভিযোগ রয়েছে বর্ষার সময় ঝুরঝুরিয়া পানিতে পূর্ণ থাকলেও তুলে দেয় জোয়ারের পানি। মৌখিকভাবে দায়িত্বে থাকা ডাগরখালী সুইচ গেটের গেটম্যান রাজিবুল শেখের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।
এলাকার মানুষ বলেন, ২০০৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ঝুরঝুরিয়ায় মৎস্য ঘের করেন কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের লোকজন। শুরু হয় নেট পাটা দেয়া। এখন নদীর বুক জুড়ে রয়েছে শতশত নেট পাটা। স্থানীয় নিয়ম মেনে রঘুনাথপুরের রফিকুল ইসলাম ও খোকনের মত নদী ভাগ করে নিয়েছেন চেয়ারম্যান মেম্বারদের নিজস্ব লোকজন। দক্ষিণ কালিকাপুরের ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আবুল কাশেম বলেন, ১৫ বছর আগেও এলাকার মানুষ এই নদীতে নৌকায় যাতায়াত করতেন। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই ঝুরঝুরিয়া নদী। নেট পাটা অপসারণের জন্য কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের করা মাইকিং ও নোটিশ মানছে না তারা। ৬ মাস পূর্বে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সর্বশেষ মাইকিং করেন। কিন্তু যা ছিল তাই রয়ে গেছে যথারীতি আগের মতই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: