আজ ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি; রোগী সল্পতা উপজেলা স্বাস্থ্য কমল্পেক্স; রোটারী ক্লাব অব টরন্টো ড্যানফোর্থের মাস্ক ও ক্ষারযুক্ত সাবান বিতরণ

আনিসুর রহমান: শ্যামনগরে চারিদিকে সুনশান নিরবতা ফাকা রাস্তা, দোকানপাট বন্ধ বিশেষ প্রয়োজনে নিত্যপন্য সংগ্রহের জন্য দু’এক জনের দেখা মিললেও চেনার উপায় নেই। মাস্ক এ মুখ ঢাকা, হাতে গ্লাভস্। এমন দৃশ্য শ্যামনগরে। শুক্রবার সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আ ন ম আবুজর গিফারীর সাথে কথা হলে জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনায় তার নেতৃত্বে পর্যবেক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে। সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে চষে বেড়াচ্ছেন। হ্যান্ড মাইক নিয়ে মানুষদের বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বাহির হতে নিষেধ করা হচ্ছে। নকিপুর বাজারে আসা ক্রেতা শাহিন ও জাহাঙ্গীর জানায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক ৩দিন বাড়িতে থাকার পর আজ বাজারে আসছি মাছ তরকারির জন্য। উপজেলার হরিনগর, নওয়াবেঁকী, মুন্সিগঞ্জ, নুরনগর ও ভেটখালী বাজার সহ সকল এলাকায় দেখাযায়, ঔষধ, মুদি, ফ্লেক্সিলোড, গ্যাসের দোকান ও কাঁচা বাজার ছাড়া সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২টি ইউনিয়নে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ৩লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বিদেশ ফেরৎ ৫শতাধিক প্রবাসীকে হোম কোয়ারেইন্টানে রাখা হয়েছে। তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যগত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। খুজে খুজে প্রবাসীদের বাড়ীতে লাল পতাকা চিহ্নিত করা হচ্ছে। দূর পাল্লা সহ স্থানীয় রুটে সকল পরিবহন বন্ধ আছে। ঢাকা থেকে আসা ব্যক্তিদেরকেও সবাইকে হোম কোয়ারেইন্টানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিনোদনকেন্দ্র গুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে-
করোনা আতঙ্কে রোগী সল্পতা দেখা দিয়েছে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। রোগ-বালাই হলে মানুষ হাসপাতালে ছুটে গিয়ে শরণাপন্ন হন চিকিৎসকের। প্রাণ রক্ষাকারী সেই প্রতিষ্ঠানে আজ রোগী সল্পতা। রহস্যময় প্রাণঘাতী করোনার আতঙ্কে থেকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছেড়ে বাড়ি ছুটে গেছেন রোগীরা। অথচ কয়েকদিন আগেও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুসহ অনেক রোগী ছিল এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু গত সোমবার থেকে রোগীর সংখ্যা কমতে থাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সুমাইয়া আক্তার নামের ডায়রিয়া হওয়া অসুস্থ শিশু রোগীকে নিয়ে শিশুটির মা শেফালী বেগম বলেন, করোনা ভাইরাসের ভয়ে স্বজন কেউই তাকে দেখতে হাসপাতালে আসেননি। রোগী সল্পতা হাসপাতালে শিশুটিকে নিয়ে অবস্থান করতে ভয় পাচ্ছেন। তাই শিশুটি সুস্থ্য হওয়ার আগেই বুকে আগলে হাসপাতাল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাড়ি ফেরার জন্য। শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালের আউটডোর-ইনডোরে কয়েক শত রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন চিকিৎসকরা। অথচ ভাইরাস থেকে রক্ষার তাদের নেই কোনো পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই)। ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষা করতে সরকারিভাবে তাদের দেয়া হয়নি বিশেষ কোনো পোশাক। আদৌ কি সরকারি ভাবে তাদের কোনো বিশেষ পোশাক দেয়া হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ৬টি আইসোলেশন সিট তৈরী রাখলেও, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষার জন্য এখনও পর্যন্ত এ স্বাস্থ্য কমপেক্সে পৌঁছেনি কিট। হাসপাতালের আউটডোর এবং ইনডোরে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার কোনো পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) না থাকলেও চিকিৎসক ও নার্সরা স্ব-স্ব উদ্যোগে রিংকোট ক্রয় করে তা পরিধান করে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ অজয় কুমার সাহা বলেন, গত কয়েকদিন মানুষ আতঙ্কে হাসপাতালের আউটডোরে ভিড় করলেও ভয়ে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হতে চাচ্ছে না। সব সময় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে শতাধিক রোগী ভর্তি থাকে, সেখানে গত কয়েকদিন রোগী ভর্তি চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। তবে চিকিৎসকরা সবাই স্টেশনে আছেন। আজ শুক্রবার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জামে মসজিদ সহ বিভিন্ন মসজিদে করোনা ভাইরাস সহ সকল প্রকার বালা মছিবত থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে রহমত কামনা করে মোনাজাত করা হয়েছে।
রোটারী ক্লাবের মাস্ক ও ক্ষারযুক্ত সাবান বিতরণ-
‘নিজে বাঁচুন,অপরকে বাচান” এ শ্লোগানের আওতায় ভয়ংকর করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শ্যামনগরে হতদরিদ্র ও পথচলা ব্যক্তিদের মাঝে মাস্ক ও ক্ষারযুক্ত সাবান বিতরণ করা হয়েছে। আজ রোটারী ক্লাব অব টরন্টো ড্যানফোর্থের প্রেসিডেন্ট মুজিবর রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলামের কাছে শতাধিক মাস্ক বিতরণ করা হয়। গত কয়েক দিনে শ্যামনগরের বিভিন্ন ইউনিয়নের জন সাধারণ ও পথচলা ব্যক্তিদের মাঝে মাস্ক ও ক্ষারযুক্ত সাবান বিতরন করা হয়। ক্লাবের প্রেসিডেন্টের সহোদর ভাই মফিজুর রহমান উপস্থিত থেকে মাস্ক ও ক্ষারযুক্ত সাবান বিতরণ করেন।স্বল্প পরিসরে এর উপকারিতা ব্যাখ্যা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: