আজ ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

জয়াখালীর ইউনুস পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা শ্যামনগর থানার এজাহার, ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ

জাহাঙ্গীর আলম কবীর: জয়াখালীর ইউনুস আলী গাজী ও তার পরিবারকে ভিটা ও বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দখল নেবার জন্য দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক হামলা করে আসছে। এই চক্রটি মানছে না পুলিশ প্রশাসন ও কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশনা। বারবার ব্যর্থ হয়ে গত ৩০ মার্চ সাঁড়াশি আক্রমণ চালিয়ে মাথায় কুপিয়ে আহত করেছে ইউনুস আলী গাজীকে। তার স্ত্রী নূরজাহান শ্যামনগর থানায় এজাহার দিলে এসআই রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ইউনুস আলী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।ইউনূস আলী গাজীর বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জয়াখালী গ্রামে। তিনি একজন দিনমজুর। জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে বিভিন্ন স্থানে কাজ করে বেড়ায়। তার সঞ্চিত অর্থ দিয়ে শ্যামনগর থানার কৈখালী মৌজায় ১/৮৯১ খতিয়ানে ১০৩৭ দাগে দু’দফায় ৫৮ শতক জমি কেনে । এই জমির ওপর তারা বাড়ি তৈরি করে, গাছ লাগিয়ে ও চাষাবাদ করে ভোগ দখল করছে। এর ওপর চোখ পড়েছে কুয়েত ফেরত একই গ্রামের ইদ্রিস আলী গাজী ও তার স্ত্রী খায়রুন্নেছার। তারা স্বামী-স্ত্রী আব্দুস সাত্তার, রাজ্জাক বৈদ্য, রজত আলী বৈদ্য, মেহেদি হাসান, করিমুন্নেসা, করিম সরদার, আমিরুল ইসলাম, খাদিজা খাতুন, কুদ্দুস আলীসহ আরও ১০/১৫ জনের সহযোগিতায় এই জমি দখল করে নেওয়ার জন্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংঘবদ্ধ দলটি তার জমির গাছ কেটে নিয়ে গেছে। জমিতে বালি তুলেছে। পাকা বাড়ি করার জন্য জোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউনুস আলী গাজীর অভিযোগের ভিত্তিতে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিষয়টি নিয়ে কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম ২০১৯ সালের ১৭ ও ২০ জুলাই দুদফা নোটিশ প্রদান করলেও খায়রুন্নেছা ও অন্যান্য অভিযুক্তরা ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হয়নি। এসময় ইদ্রিস আলী গাজী কুয়েতে ছিলো। খায়রুন্নেসা ও তার স্বামী ইদ্রিস আলী গাজী দালাল আমিনুর গাজী সহ কতিপয় দুষ্টু প্রকৃতির ব্যক্তির পরামর্শে সব ধরনের শালিস ও শান্তি বৈঠক বর্জন করে আসছে। জনশ্রুতি রয়েছে আমিনুর গাজীর সাথে খায়রুন্নেছার আপত্তিকর সম্পর্ক রয়েছে। তার কাছ থেকে চা পান বিড়ি খাবার খরচ নেয়। পিছনে পিছনে ঘুরে থাকে। নির্জনে খোশগল্প করে।এদিকে মীমাংসার সাথে সন্ত্রাসীরা পুলিশ সুপারের কাছে অঙ্গীকার আমার প্রদান করে। কিন্তু অঙ্গীকার করার পরও তারা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। গত ৩০ মার্চ বিকেলে ইদ্রিস আলী গাজী, খায়রুন্নেছা, আব্দুস সত্তার, রাজ্জাক বৈদ্য, রজত আলী বৈদ্য, মেহেদী হাসান এবং আমিনুর গাজী একত্র হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইউনুস গাজী পরিবারের উপরে হামলা চালায়। জমি দখল নেবার চেষ্টা করে। বাধা দিলে ইউনুস আলী গাজীর মাথায় হাতে কোপ মারে। নুরজাহান খাতুনের বিবস্ত্র করে শ্লীলতা হানি ঘটায়। আহত ইউনুস সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার স্ত্রী শ্যামনগর থানায় এজাহার করে। থানার এসআই রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি আইনী ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান। কিন্তু ইউনুস আলী গাজী ও নুরজাহান খাতুন সন্ত্রাসীদের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত। তারা পুলিশের সাহায্য কামনা করেছ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: