আজ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সাতক্ষীরায় কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সামগ্রী যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে করোনা মোকাবিলায় আইসিইউ ভেন্টিলেটরগুলো চালুর আগ্রহ নেই

জাহাঙ্গীর আলম কবীর: কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আমদানিকৃত মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দু’বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বাক্সবন্দী এই যন্ত্রপাতিগুলো চালু করার কোন উদ্যোগ নেই। অনুমান করা হচ্ছে সরকারি সম্পদ জনস্বার্থে ব্যবহৃত না হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। যার ফলে সরকারি অর্থের বিশাল অপচয় হয়েছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে রেসপিরেটরি সিস্টেমে সাপোর্ট দিতে আইসিইউ ভেন্টিলেটরগুলোর সংযোজন করা গেলে করোনা মোকাবিলা সহজতর হতো বলে ডাক্তাররা অভিমত দিয়েছেন।
২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি যাচাই এবং মূল্য নির্ধারণের ২০১৯ সালের ২৮ মে তারিখের তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিশাল সংখ্যক যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দী অবস্থায় দীর্ঘদিন পড়ে আছে। তবে এই প্রতিবেদনে কি পরিমাণ মালামাল পড়ে আছে তার উল্লেখ না থাকলেও বলা হয়েছে এগুলো অচল ও মেরামতের অযোগ্য হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর তারিখে দাখিলকৃত অপর একটি সার্ভে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাক্সবন্দী যন্ত্রপাতিগুলো সচল কিনা দেখার জন্য ইনস্টল করা প্রয়োজন। কিন্তু এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখা যায়নি। ইতোমধ্যেই কেটে গেছে দুটি বছর।
সার্ভে প্রতিবেদনে দেখা যায়, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান সমূহের জন্য ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের টেন্ডারের মাধ্যমে এবং ২০১৮ সালের ১৩ মে, ৮ জুলাই ও ৫ সেপ্টেম্বর তারিখের তিনটি কার্যাদেশে যন্ত্রপাতি ও মালামাল সংগ্রহ করা হয়। এরমধ্যে ৩৫টি বাইনোকুলার মাইক্রোস্কোপ, কিছু যন্ত্রপাতি যেমন এক্সরে মেশিন, ক্লিনিক্যাল কেমিস্ট্রি এনালাইজার মেশিন ও ‘পিকচার আর্কাইভিং কমিউনিকেশন সিস্টেম (প্যাক্স) সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি হিসাব বিহীন মেমোগ্রাফী, সিটি স্কান, সিটি এনজিওগ্রাম, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, এনেসথেশিয়া মেশিন উইথ ভেন্টিলেটর, হট এয়ার ওভেন, ইনকিউবেটর, সেন্টিফিউগেল মেশিন, অর্থোপেডিক সার্জারি ইনস্ট্রুমেন্ট সেট, অপথালমস্কোপি, স্লিট ল্যাম্প, রেটিনোস্কপ, ডেন্টাল এক্সেসরিজ সেট, ব্লাড কালেকশন মনিটর ও ওয়াটার বাথ ইত্যাদি যন্ত্রপাতিগুলো বাক্সবন্দী অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেগুলো সচল রয়েছে কিনা তাও জানা হয়নি। এসব মালামাল কিছু সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের বারান্দায়, কিছু সদর হাসপাতালের ভেতরে জেলা ইপিআই স্টোরের ওপরে এবং কিছু যন্ত্রপাতি হাসপাতালে রয়েছে। অপরদিকে বেশকিছু যন্ত্রপাতির তালিকা এই সার্ভে কমিটি খুঁজে পায়নি। এই সার্ভে প্রতিবেদনটি তৈরি করেন খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাক্তার রাশিদা সুলতানার নির্দেশে গঠিত সার্ভে টিমের সদস্য ডাক্তার আতিয়ার রহমান শেখ, ডাক্তার তৈয়েবুর রহমান এবং ডাক্তার আব্দুল লতিফ। তারা যন্ত্রপাতির তালিকার বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান।
একইভাবে যন্ত্রপাতির তালিকার বিষয়টি এড়িয়ে যান সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি যাচাই মূল্য নির্ধারণ কমিটির সদস্য সহকারী পরিচালক (শৃঙ্খলা-১) ডাক্তার সৈয়দ কামরুল ইসলাম, পরিচালক (হাসপাতাল-২) ডাক্তার মাসুদ রেজা খান এবং সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রনিক্স) এমন এমন নাশিদ রহমান। তবে ২০১৯ সালের ২৮ মে তাদের প্রতিবেদনে মতামত দেন, ‘বিশাল সংখ্যক যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দী অবস্থায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে এবং আনইন্সটল অবস্থায় হাসপাতালে অব্যবহৃত থাকলে তা পরবর্তীতে অচল ও মেরামতের অযোগ্য হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। যার ফলে সরকারি অর্থের অপচয় হয় ও সরকারি সম্পদ জনস্বার্থে ব্যবহৃত না হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ ইতোমধ্যেই কেটে গেছে প্রায় আরো একটি বছর কিন্তু বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম বলেন, আইসিইউ ভেন্টিলেটর চারটির মধ্যে দুইটি চালু করা হয়েছে। তবে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই না থাকায় সিলিন্ডার দিয়ে এগুলো বেশিক্ষণ চালানো যায় না। তিনি আরো বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরবরাহকৃত অন্যান্য সকল যন্ত্রপাতি চালু করা হয়েছে। আইসিইউ ভেন্টিলেটর দুটি করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য দ্রুত সংযোজন করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডাক্তার হুসাইন শাফায়াতের সাথে তার ব্যস্ততার কারণে কথা বলা যায়নি। তিনি ভিডিও কনফারেন্সের জন্য ব্যস্ত ছিলেন। ভান্ডার রক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন তিনি বিষয়গুলো ভালভাবে জানেন না। বলেন দুদকের মামলার কারণে বাক্সবন্দী চিকিৎসা যন্ত্রপাতিগুলোর গায়ে জ্বর, ছোঁয়া যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: