আজ ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের শিকার দেবহাটার ইউপি সদস্য মোকারম শেখ

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটায় নাসিমা খাতুন (৩০) নামের এক মানসিক ভারসম্যহীনকে দেয়া সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার টাকাকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য শেখ মোকারম হোসেন।
বুধবার পারুলিয়ার জোয়ার গুচ্ছগ্রাম এলাকার ওই মানসিক ভারসম্যহীন নাসিমা খাতুনকে সমাজসেবা অফিসের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার নয় হাজার টাকা দেয়ার পর সেই টাকা থেকে কিছু টাকা নেয়ার ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ইউপি সদস্য মোকারম শেখের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মুলোক অপপ্রচার চালাতে শুরু করে তার নির্বাচনী প্রতিপক্ষরা। এমনকি বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরার বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজ পোর্টালেও সংবাদ প্রকাশিত হয় মোকারম শেখের বিরুদ্ধে।
বৃহষ্পতিবার সকালে সরেজমিনে জোয়ার গুচ্ছগ্রামে ভুক্তভোগীর বাড়ীতে গেলে মানসিক ভারসম্যহীন নাসিমার মা আলাপি বেগম (৭০) জানান, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসম্যহীন মেয়ে নাসিমাকে নিয়ে ছেলে মোস্তফা গাজী (মোস্ত) এবং বৌমা শাহানারা খাতুনের সংসারে থাকছেন তিনি। তাদের উভয়ের ভরনপোষন করেন ছেলে ও বৌমা। কিন্তু ঘুর্নিঝড় আম্পানে তাদের একমাত্র বসত বাড়িটি প্রায় পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সেখান থেকেই অতি কষ্টে ওই ভাঙা ঘরে ছেলে, বৌমা ও নাসিমাকে নিয়ে বসবাস করেন তিনি।
সম্প্রতি ইউপি সদস্য মোকারম শেখের প্রচেষ্টায় তার মানসিক ভারসম্যহীন মেয়ে নাসিমার নামে একটি প্রতিবন্ধী কার্ড দেয় সমাজসেবা অফিস। বুধবার সকালে প্রতিবন্ধী নাসিমা ও বৌমা শাহানারা খাতুনকে নিয়ে পারুলিয়া এসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী ভাতার নয় হাজার উত্তোলন করতে যান তিনি। টাকা উত্তোলনের পর তার বৌমা শাহানারা খাতুন আম্পানে ভাঙে যাওয়া বসত ঘরটি মেরামতের জন্য সেখান থেকে ৫ হাজার টাকা পরবর্তীতে শোধ দেয়ার কথা বলে ধার নেন। সেসময়ে ইউপি সদস্য মোকারম শেখ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এরপর আবার একসাথে পারুলিয়া থেকে বাড়ীতে ফিরে আসেন তারা।
কিন্তু পরবর্তীতে এঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ষড়যন্ত্র মুলোক ভাবে ইউপি সদস্য মোকারম শেখকে জড়িয়ে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা আত্মসাতের অপপ্রচার চালাতে শুরু করে তার নির্বাচনী প্রতিপক্ষরা।
প্রতিবন্ধী নাসিমা খাতুনের মা আলাপি বেগম আরো জানান, আমি আমার বৌমা শাহানারাকে টাকা দিয়েছিলাম। মোকারম মেম্বর আমার থেকে কোন টাকা নেয়নি। কিন্তু ঘটনাটি ভিন্নখাতে যাওয়ায় আমার বৌমা আবার আমাকে ৫ হাজার টাকাই ফেরত দিয়েছে। এখানে মোকারম মেম্বরের কোন সম্পৃক্ততা নেই।
এবিষয়ে ইউপি সদস্য মোকারম শেখ বলেন, আমি এঘটনার কিছুই জানিনা। কিন্তু যখন আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তখন আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি যে, প্রতিবন্ধী নাসিমাকে দেয়া ভাতার টাকা থেকে কিছু টাকা ঘর মেরামতের জন্য পরে শোধ দেয়ার শর্তে তার বৌমা ধার নিয়েছিলো এবং আবার সেই টাকা শ্বাশুড়ীকে ফেরতও দিয়েছে। সম্পূর্ন উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!