আজ ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৮ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

নওয়াবেকী পদ্মপুকুরের টক ‘অফ দা ভিলেজ’ লিলি মহসিন সাইফুলের প্রেম কাহিনী – জনতার মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: শ্বশুর, শ্বাশুড়ি ও স্বামীকে ঘুমের বড়ি ও চেতনা নাশক ওষুধ খাইয়ে একাধিক প্রেমিকের সাথে মিলিত হওয়া লিলি আক্তার অবশেষে ফেঁসে গেলো। মোবাইলের ফোন কল রেকর্ডে ও পাড়া প্রতিবেশীর হাতে ধরা পড়া লিলি প্রেমিক মহসিন গাজীর সাথে রাতের আঁধারে পালিয়ে গিয়ে খোলপেটুয়া নদী পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাবার বাড়িতে। এখন তাকে নিয়ে চলছে টানাটানি। অপর প্রেমিক ফুফাতো ভাই সাইফুল ইসলাম তাকে নিয়ে যেতে চায় তার ভাড়াটিয়া বাসায়। অন্যদিকে তার শ্বশুর, শ্বাশুড়ি ও স্বামী বারবার অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে কখনো হাসপাতালে, কখনো নিজ বাড়িতে। ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামে। বিষয়টি এখন ‘টক অফ দা ভিলেজ’।
লিলি আক্তারের পিতার নাম আব্দুর রশিদ সরদার। বাবার বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের সাপেরদুনে গ্রামে। একের পর এক লিলির পরকীয়ার কারণে বাবা অতীষ্ঠ হয়ে তেমন কাউকে না জানিয়ে বিয়ে দেয় পদ্মপুকুর গ্রামের ইসলাম সানার ছেলে ফারুক হোসেনের সাথে। ২০০৮ সালে বিয়ের পর লিলি জন্ম দেয় দু’সন্তান। মেয়ের বয়স ১০ বছর। ছেলের বয়স ৪ বছর। স্বামী জীবন জীবিকার কারণে বছরের ৬ মাস ঢাকায় থাকে। এই সুযোগে ৭ থেকে ৮ বছর পূর্বে সম্পর্ক গড়ে তোলে তার পাশের গ্রাম পাখিমারার আব্দুল মাজেদ গাজীর ছেলে মহসিন গাজীর সাথে। সে ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালায়। রাতের বেলায় স্বামী ফারুক হোসেনের ঘরেই চলে তাদের অবৈধ মেলামেশা। বিষয়টি প্রথম দেখতে পায় ফারুকের বাক প্রতিবন্ধী বড় বোন শাহানারা খাতুন। বিষয়টি জানাজানি হতে শুরু করে। তবু থেমে থাকেনি লিলি ও মহসিন। চলে মোবাইলে যোগাযোগ। লিলি বাবার বাড়ি সাপেরদুনেতেও করে মেলামেশা। বাবার বাড়িতে থেকে মেলামেশা করে তার অপর প্রেমিক ফুফাতো ভাই সাইফুল ইসলামের সাথে। সাইফুল ইসলাম দৈনিক নাগরিক ভাবনা, জয়যাত্রা টেলিভিশন এবং এস বাংলা টেলিভিশনের কথিত সাংবাদিক। আবার ইটভাটা শ্রমিক। তাই শ্যামনগর উপজেলা ইটভাটা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতিও বটে। এছাড়াও লিলির সাথে মেলামেশা রয়েছে বিয়ের পূর্বের প্রাক্তন প্রেমিকদের।
স্বামীর বাড়িতে থাকাকালীন সময়ে বছর তিনেক পূর্বে লিলি আক্তার মহসিন গাজীর সাথে মেলামেশা করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে তখন সালিশের মাধ্যমে মিমাংসা করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুল গফুর, পাখিমারার শফিকুল ইসলাম, শওকত গাজী সহ গন্যমান্য ব্যক্তিরা। কিন্তু থেমে থাকেনি লিলি ও মহসিন। পুনরায় ধরা পড়লে আবারও সালিশী বৈঠক হয়। এভাবে একাধিকবার সালিশ করে স্থানীয় অপর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আজিজুল ইসলাম ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা।
চোরে শোনে না ধর্মের কাহিনী। প্রেমের গভীর আকর্ষণে এবার আশ্রয় নেয় ভিন্ন কৌশলের। মহসিন গাজী ঘুমের বড়ি ও চেতনা নাশক ওষুধ কিনে দেয় লিলির কাছে। আর লিলি এসব ওষুধ খাওয়াতে থাকে শ্বশুর ইসলাম সানা, শ্বাশুড়ি খাদিজা খাতুন ও ফারুক হোসেনকে। ফারুক বেশির ভাগ সময় বাড়িতে না থাকায় তেমন ক্ষতি না হলেও ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ে ইসলাম সানা ও খাদিজা খাতুন। চেতনাহীন অবস্থায় তাদের দু’জনকে ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে বিভিন্ন সময়ে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। ইসলাম সানাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। আর খাদিজা খাতুন একাধিকবার ভর্তি হয় সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তারা দু’জনে গত তিন বছরে একাধিকবার চিকিৎসা নেয় ডা. প্রবীর কুমার দাস, ডা. আব্দুল আলীম, ডা. কাজী আরিফ আহমেদ, ডা. স্বদেশ কুমার চক্রবর্তী, ডা. তৌহিদুজ্জামান, ডা. সঞ্জয় সরকার, ডা. ফজলুর রহমান, ডা. মানস কুমার, ডা. ফরহাদ জামিল ও ডা. মামুনুর রশীদের কাছে। অসুস্থ ইসলাম সানা ও খাদিজা খাতুন বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চাইলে লিলি আক্তার রাতের আঁধারে মহসিন গাজীর সাথে খোলপেটুয়া নদী পাড়ি দিয়ে বাবার বাড়ি সাপেরদুনেতে চলে যায়। এদিকে বহু বিবাহের নায়ক প্রেমিক ফুফাতো ভাই কথিত সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম নওয়াবেকী বাজারে তার ভাড়াটিয়া বাসায় লিলি আক্তারকে নিয়ে যেতে পীড়াপীড়ি করছে।
অবৈধ মেলামেশা, পরিবারের সদস্যদের চেতনা নাশক ওষুধ খাওযানো এবং লিলির সাথে মেলামেশার গোপন প্রেম কাহিনীর বিষয়গুলো জানা যায় লিলি আক্তার ও মহসিন গাজীর মোবাইল ফোনের কথোপকথন থেকে। এই ধরনের নোংরা ফোনালাপের মেমোরি কার্ড রয়েছে ফারুক হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে। বর্তমানে মহসিন গাজী বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধর্না দিচ্ছে। লিলি আক্তারের বাবা তাকে স্বামীর বাড়িতে তুলে দেবার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আর সাইফুল ইসলাম লিলিকে ঘরে না তুললে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি এখন নওয়াবেকী ও পদ্মপুকুরে ‘টক অফ দ্যা ভিলেজ’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!