আজ ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মোকারম মেম্বরের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পায়নি পুলিশ – জনতার মিছিল

মাহমুদুল হাসান শাওন, দেবহাটা: সাতক্ষীরার দেবহাটায় নাসিমা খাতুন (৩০) নামের মানসিক ভারসম্যহীন প্রতিবন্ধীকে দেয়া সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা আত্মসাতের মিথ্যা যে নাটকটি মঞ্চস্থ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিলো, সেটির তদন্তে ভুমিহীন নেতা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য শেখ মোকারম হোসেনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিন্দুমাত্র সত্যতা পায়নি পুলিশ।
শুক্রবার সকাল ১০ টায় দেবহাটা থানা ভবনে ওই প্রতিবন্ধী নাসিমা খাতুনসহ তার পরিবার ও স্থানীয় ইউপি শেখ মোকারম হোসেনের উপস্থিতিতে ঘটনাটির সুক্ষ তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা। তদন্তকালে ওসি নিজেই আলাদা আলাদা ভাবে ওই প্রতিবন্ধী ও তার পরিবারের পাশাপাশি ইউপি সদস্য মোকারম শেখের বক্তব্য শোনেন।
তদন্ত শেষে ওসি বিপ্লব কুমার সাহা সাংবাদিকদের জানান, প্রতিবন্ধী নাসিমা খাতুন, তার মা আলাপি বেগম ও ভাবি শাহানারা খাতুনের বক্তব্য আলাদা আলাদাভাবে শোনা হয়েছে। ইউপি সদস্য মোকারম শেখকে তারা কোন টাকা দেয়নি বলে ওই প্রতিবন্ধীর পরিবার তাদের বক্তব্যে জানিয়েছে। তারা বলেছে, প্রতিবন্ধী নাসিমা খাতুনকে দেয়া সরকারী প্রতিবন্ধী ভাতার নয় হাজার টাকা থেকে তার ভাবী শাহানারা খাতুন আম্পানে ভেঙে যাওয়া নিজেদের বসত ঘর মেরামতের জন্য পাঁচ হাজার টাকা পরবর্তীতে শোধ দেয়ার কথা বলে সাময়িক সময়ের জন্য ধার নেয়। পাশাপাশি তদন্তকালে তারা আরো জানায় যে যেসময়ে তারা ভাতার টাকা উত্তোলন করেছিলো সেসময়ে সেখানে মেম্বর মোকারম শেখ উপস্থিত ছিলেননা কিংবা তারাও মেম্বরকে কোন টাকা দেননি। তাই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধেও তাদের কোন অভিযোগ নেই বলে তদন্তকালে ওই প্রতিবন্ধীর পরিবার জানিয়েছে।
ওসি আরো বলেন, প্রতিবন্ধী পরিবারের পর মেম্বর মোকারম শেখের বক্তব্যও শোনা হয়। সেখানেও এই ঘটনায় তার জড়িত থাকার কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, তদন্তকালে উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনাবোঝার পর গোটা ঘটনাটি তৃতীয় কোন পক্ষের নিছক ষড়যন্ত্র বলে মনে হয়েছে। প্রতিবন্ধীর অর্থ আত্মসাতের যে বিষয়টি সেটি ষড়যন্ত্র মুলোক ও অপপ্রচার বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে এধরনের অপপ্রচার ছড়ানোর পিছনে কারা জড়িত রয়েছে সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি বিপ্লব কুমার সাহা।
উল্লেখ্য, বুধবার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া জোয়ার গুচ্ছগ্রামের প্রতিবন্ধী নাসিমা খাতুনকে দেয়া সরকারী প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা তার মায়ের কাছ থেকে ভাবী শাহানারা খাতুন শোধ দেয়ার কথা বলে ধার নেয়। এঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত ও স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ মোকারম হোসেনকে বেকায়দায় ফেলতে তার নির্বাচনী প্রতিপক্ষরা তাকে জড়িয়ে ওই প্রতিবন্ধী নাসিমা খাতুনের ভাতার টাকা আত্মসাতের মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলো। শুক্রবার ওই প্রতিবন্ধীসহ তার পরিবার ও ইউপি সদস্য মোকারম শেখকে নিয়ে থানা ভবনে ঘটনার সুক্ষ তদন্ত করেন দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!