আজ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাদরাসার শিক্ষকরা ৮ মাস যাবত বেতন পাচ্ছে না

অনলাইন ডেস্ক: শেমাই চিনিও ভাগ্যে জোটেনি দুই ঈদে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দারুল আরকাম এবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক শিক্ষিকারা বিগত ৮ মাস যাবত বেতন ভাতা পাচ্ছে না। এসব শিক্ষকরা পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহার অনিদ্রায় দিন কাটাচ্ছেন। দেশের বন্যাদুর্গত এলাকার এসব শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। গত দু’টি ঈদেও এদের অনেকেই শেমাই চিনি পর্যন্ত কিনতে পারেননি। একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষকরা এসব তথ্য জানিয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ সোমবার ইনকিলাবকে বলেন, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ’র ইন্তেকালের দরুণ দারুল আরকাম এবতেদায়ি মাদরাসার প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়টি ঝুলে গেছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া দারুল আরকাম এবতেদায়ি মাদরাসা প্রকল্প পাশ করা সম্ভব নয় বলেও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক উল্লেখ করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে নতুন ধর্ম মন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পরেই তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষকদের ভাগ্য।
এদিকে, দারুল আরকাম শিক্ষক কল্যাণ সমিতি বাংলাদেশ এর সভাপতি মো. জয়নুল আবেদীন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিষ্ঠিত দারুল আরকাম এবতেদায়ি মাদরাসার ২ হাজার ২০ জন শিক্ষকদের অবিলম্বে বেতন ভাতা প্রদান ও ১৫ আগষ্ট শোক দিবসের কর্মসূচি পালনের জন্য অফিস আদেশ প্রদানের জন্য ইফার মহাপরিচালকের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত করেন। ইসলামের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর অবদান প্রসার এবং সারাদেশে কোমলমতি শিশুদের ইসলামী নৈতিক শিক্ষা দানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের অধীনে দারুল আরকাম এবতেদায়ি মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত করেন। যা ২০১৪ সালে একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অনুমতি প্রদান করেন। ২ হাজার ২০ জন শিক্ষক ২০১৮ সালের মার্চ মাসে নিয়োগ পেয়ে স্ব স্ব কর্মস্থলে যোগদান করে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, ভূমি, ভবন নির্মাণ, ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষা দেয়াসহ প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম যথাযথ ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। মাত্র দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ভবন নির্মাণসহ প্রায় ২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে। দারুল আরকাম মাদরাসা প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর নির্দেশমত বাস্তবায়ন করছে। অজ্ঞাত কারণে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প থেকে দারুল আরকার এবতেদায়ি মাদরাসাকে বাদ দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২ জুন মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প পাঁচ বছর মেয়াদী ৭ম পর্বে ৩১ শ’ ২৮ কোটি টাকা অনুমোদন দেন। এতে গত জুলাই মাসে প্রকল্পের ৭৬ হাজার সাড়ে ৬শ’ শিক্ষক কর্মচারি গত ৭ মাসের বেতন ভাতা একসাথে পেয়েছে। কিন্ত দারুল আরকার মাদরাসাকে প্রকল্প থেকে বাদ দেয়ায় ২ হাজার ২০ শিক্ষক শিক্ষিকার বেতন ভাতার বিষয়টি ঝুলে গেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়,দারুল আরকার মাদরাসা পরিচালনার জন্য পৃথক প্রকল্প অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় প্রস্তাব পাঠানো হবে। সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো.আব্দুল্লাহ জীবিত থাকা অবস্থায়ও এসব শিক্ষকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দারুল আরকার মাদরাসার শিক্ষাকদের চাকরি বহাল থাকবে এবং পৃথক প্রকল্পের অধীনেই তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গত ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আগামী ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কিন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিষ্ঠিত দারুল আরকাম মাদরাসার জন্য কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এতে মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: