আজ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২০

মমতাজ খাতুন

ভুমিকাঃ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস । বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বর্নাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ দিবসটি পালন করা হচ্ছে। অন্যান্য বছর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হয়ে থাকে। কিন্তু‘ এবার করোনা মহামারির কারণে তা বাতিল করা হয়েছে। ১৯৬৫ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে এবং ১৯৬৬ সাল থেকে ইউনেস্কোর উদ্যোগে পৃথিবীব্যাপী আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়ে আসছে। কিন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭২ সালে প্রথম আন্তজাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়। এ বছর ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২০ এর নির্ধারিত থিম “খরঃবৎধপু ঞবধপযরহম ধহফ ষবধৎহরহম রহ ঃযব ঈঙঠওউ ১৯ পৎরংরং ধহফ নবুড়হফ রিঃয ধ ভড়পঁং ড়হ ঃযব ৎড়ষব ড়ভ বফঁপধঃড়ৎং ধহফ পযধহমরহম ঢ়বফধমড়মরবং” আর এর বাংলা প্রতিপাদ্য আলোকে মন্ত্রনালয় কর্তৃক অনুমোদিত “কোভিড-১৯ সংকট সাক্ষরতা শিক্ষায় পরিবর্তনশীল শিক্ষন-শেখানো কৌশল এবং শিক্ষাবিদদের ভূমিকা”
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঃ প্রতি বছর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সাক্ষরতা বিস্তারে সকলকে উদ্বুদ্ধ করা, বিগত বছরের সাক্ষরতা কার্যক্রমের মূল্যায়ন করে এবং পরবর্তী বছরে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করাই এ দিবস পালনের উদ্দেশ্য। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি-৪, টার্গেট এর মধ্যে ৪.৩, ৪.৪, ৪.৫, ৪.৬) উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাসমূহ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্বুদ্ধকরণ এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করে আসছে এবং এ দিবসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারের কাছে ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ আবেদন জানানো হয় যাতে করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণীর সাক্ষরতা অর্জনে শিক্ষা, বিশেষ করে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসারে সংশ্লিষ্টদের সংহতি ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো দিবসটি উদযাপনে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহন কে থাকে।  
এসডিজি-৪ এর সংশিষ্ট টার্গেট ঃ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় ১৭টি লক্ষ্যমাত্রায় মধ্যে (এসডিজি-৪) এর টার্গেট এর মধ্যে ৪.৩, ৪.৪, ৪.৫, ৪.৬ সাক্ষরতা অর্জনে ব্যপক ভুমিকা দৃশ্যমান। (৪.৩ দেশের সকল নারী-পুরুষের জন্য স্বল্প মূল্যে মানসম্মত কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও একাডেমিক শিক্ষায় সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ; ৪.৪ মানসম্মত চাকরি ও আত্মকর্মসং¯’ানের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতাসহ সব ধরনের দক্ষতা আছে, এমন তরুণ ও প্রাপ্ত বয়স্কের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি; ৪.৫ শিক্ষা ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ এবং প্রতিবন্ধী, আদিবাসী ও যে-সব শিশু ঝুঁকিপূর্ণ অব¯’ায় আছে তাদেরসহ সকল ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সকল স্তর ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে সমান অভিগম্যতা নিশ্চিতকরণ; ৪.৬ নারী ও পুরুষ সহ যুবসমাজের সবাই এবং বয়স‹ জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে সাক্ষরতা ও গণন-দক্ষতা অর্জনে সফলকাম হয় তা নিশ্চিত করা,৪.৭ টেকসই উন্নয়নের জন্য সকলের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের অবস্থান ঃ স্মরণকালের সর্ববৃহৎ পদক্ষেপ হিসেবে সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ইতিমধ্যেই ২০২০ সালের ১৭ মার্স থেকে স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষনা করেছে সরকার। স্বাধীন বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি নাগরিকের ন্যূনতম মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে বিগত ৫০ বছর আগে। যার মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রিয় ভাষা বাংলার পাশাপাশি প্রায় ৪০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি উপজাতীয় ভাষাগুলোর মধ্যে ওরাও, খাসিয়া, গারো, চাকমা, মগ, মনিপুরি, মুন্ডা, সাওতালি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া খুমি, কোচ, হাজং, চাক, খাড়িয়া, খিয়াং ইত্যাদি। এ ছাড়া প্রতিবন্ধীদের প্রতিবন্ধীতা অনুযায়ী বিভিন্ন উপকরনের মাধ্যমে ভাষা শিক্ষা। যেমনঃ ইশারায় ভাষা শিক্ষা, ব্রেইল পদ্ধতি ইত্যাদি। তাই সরকার ওে বেসরকারী সং¯’া বহু ভাষায় সাক্ষরতা অর্জনে কাজ করে যা”েছ এবং এবাবেই দ্রুত উন্নত জীবনেরও নিশ্চয়তাও দিবে। তাই রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের প্রয়াসে বাংলাদেশের সংবিধান শিক্ষাকে রাষ্ট্রের একটি মৌলিক নীতি হিসেবে চিহ্নিত করে ১৭ (ক) (খ) ও (গ) ধারায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, ‘রাষ্ট্র (ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যব¯’া প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য; (খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করিবার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদি”ছা প্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য, (গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করিবার জন্য কার্যকর ব্যব¯’া গ্রহণ করিবেন।’
‘৭ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় শিক্ষানীতি গৃহীত হয়েছে। বলা হয়েছে (ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যব¯’া প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য, (খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করিবার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদি”ছা প্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য, (গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করিবার জন্য কার্যকর ব্যবস্থ’া গ্রহণ করিবেন।’
বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিসরে সাক্ষরতা শব্দের প্রথম উল্লেখ দেখা যায় ১৯০১ সালে লোক গণনার অফিসিয়াল ডকুমেন্টে। ১৯৪০-এর দিকে পড়ালেখার দক্ষতাকে সাক্ষরতা বলে অভিহিত করা হতো, ষাটের দশকে পড়া ও লেখার দক্ষতার সঙ্গে সঙ্গে সহজ হিসাব-নিকাশের যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষই স্বাক্ষর মানুষ হিসেবে পরিগণিত হতো। আশির দশকে লেখাপড়া ও হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি সচেতনতা ও দৃশ্যমান বস্তসামগ্রী পঠনের ক্ষমতা সাক্ষরতার দক্ষতা হিসেবে স্বীকৃত হয়। তবে আজকে শুধু পড়তে ও লিখতে পারলে চলছে না বরং আজ সাক্ষরতার সংগা বলতে বোঝানো হ”েছ, মার্তৃভাষার মাধ্যমে পড়া, অনুধাবন করা, মৌখিকভাবে এবং লিখার বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা, যোগাযোগ স্থাপন করা এবং গণনা করার দক্ষতা। এটি একটি ধারাবাহিক শিখন-প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজস্ব বলয় এবং বৃহত্তর সমাজের উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের জন্য ক্ষমতা ও জ্ঞানের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।’ (জাতীয় শিক্ষা নীতি)

সরকারের কার্যক্রম ও বেসরকারী সংস্থার সহযোগিতা ঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষার প্রসারের ব্যাপারে এক নব উদ্দীপনা এবং উদ্যোগ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান সার্বিক প্রাথমিক শিক্ষানীতির ভিত্তি রচনা করেছে।১৯৮০-র দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সরকার বেসরকারি সং¯’াসমূহকে জনসাধারণের মৌলিক শিক্ষার চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও পরিবীক্ষণের অনুমতি দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো হ”েছ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য জাতীয় পর্যায়ের একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা পলিছি ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়ন এবং সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার প্রদানে সাক্ষরতা অর্জনে পেশাদার নের্তৃত্ব প্রদান করে আসছে এবং তার সহযোগী সং¯’া হিসেবে বিভিন্ন এনজিও কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতার আওতায় আনা হয়েছে এবং জীবনমূখী শিক্ষাও দেওয়া হয়েছে। মুজিবর্ষ উপলক্ষে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষায় আরও ২১ লক্ষ ৩৬ হাজার নারী ও পুরুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে যার মধ্যে খুলনা জেলায় ৩৬০০০।  
প্রধান প্রধান অগ্রগতি ঃ আমরা এগিয়েছি অনেক। পেরিয়েছি অনেক কঠিন পথ। শিক্ষাকে গুরুতের মানদন্ড বিচারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হলো‘শিক্ষা একটি বিনিয়োগ’। কর্মসং¯’ান নয়, একজন শিক্ষার্থী তার নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযোগী কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে পারবে। বিনামূল্যে বই বিতরণ, নারীদের উপবৃত্তি প্রদান, চাকুরিতে নারী কোটা এ যেন বিশ্বের বহু দেশের মানুষকে দেখিয়ে দেওয়া। দেখো আমরা সাম্য-সংহতি-শান্তি শিক্ষা ও স্বা¯ে’্যর জন্য কী অসাধ্য সাধন করেছি।
সাক্ষরতার অগ্রগতি ঃ সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা কর্তৃক গৃহীত নানাবিধ পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে যে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে তা ১৯৭৪-২০২০ পর্যন্ত বিভিন্ন জরিপের তথ্য থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় শুমারি ১৯৭৪ : ২৫.৯% এবং ২০১২ সালের শিক্ষার হার ৫৭.৭ শতাংশ এবং বর্তমান সাক্ষরতার হার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ হয়েছে (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা  মন্ত্রনালয়ের তথ্য,কালের কন্ঠ) আর শিক্ষার হার খুলনা জেলায় ৬০.১% -(জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট).
আইন ও নীতিমালা ও অনান্য ঃ  শিক্ষা একটি চলমান কার্যক্রম । গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সংবিধানে শিক্ষাকে নাগরিকের একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে । আন্তর্জাতিক ফোরামে সরকার সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নানা প্রকল্প ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিগত দশকে শিক্ষার প্রসারে নীতিকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এর মধ্যে ২ জানুয়ারি ২০০৬ তারিখ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষানীতি জারি, ১৮ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন-২০১৪’ পাস এবং ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বোর্ড’ গঠন উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১২, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি-২০১১ ও জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষানীতি-২০০৬ শিক্ষা ব্যব¯’ার উন্নয়নে এবং নারীর অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। এসব নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন-২০১৪ জাতীয় সংসদে পাশ হয়ে আইনে পরিণত হয়েছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষানীতি অনুযায়ী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ক্ষেত্রে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষানীতি ও আইনের আলোকে দেশ ব্যাপী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার কারিকুলাম তৈরি, মান যাচাই, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে সমতুল্যতা প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি কাজের দায়িত্ব ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বোর্ড’ এর উপর।
সরকার ও সরকারের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা বিভিন্ন ভাষায় সাক্ষরতার উপর গুরুত্বসহকারে কর্মসূচী অব্যাহত রেখেছেন। এসডিজি-৪ এর সকল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকার ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০) প্রণয়ন করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর কর্তৃক এসডিজি বিষয়ক জাতীয় সমন্বয়কের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহ ইতোমধ্যেই সার্বিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এসকল কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়নে বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’র উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন ২০১৪, ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং এসডিজি-৪ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং কর্মসূচী চলমান যেমনঃ মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা), উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (এনএফইডিপি), বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুদের জন্য উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, জীবনব্যাপী শিক্ষা, সেকেন্ড চান্স এডুকেশন, আইসিটি-ভিত্তিক স্থ’ায়ী কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার (সিএলসি) প্রতিষ্ঠা,  ইত্যাদি এবং ইতিপূর্বে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্প- ১, ২, ৩ ও ৪, মানব উন্নয়নে সাক্ষরতা-উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-১, ২ ও ৩, শহুরে কর্মজীবী শিশুদের জন্য মৌলিক শিক্ষা যা সহযোগী এনজিও কর্তৃক কার্যক্রম বিশেষ ভূমিকা রেখেছে এবং প্রকল্পের আওতায় সরকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই সাক্ষরতা ও আত্ম-কর্মসং¯’ানের ব্যব¯’া করার পাশাপাশি দক্ষ কর্মী হিসেবে চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পেরেছে। পাশাপাশি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতায় মসজিদ ও মন্দিরভিত্তিকও সাক্ষরতার কর্মসূচী এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ও সাক্ষরতা কমৃসূচী পরিচালনা করে যাচ্ছে।
২০০৮ সালে ৫-৬ বছর বয়সী শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করায় দৃঢ় প্রত্যয়ে একদিকে যেমন প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন কাঠামো প্রণীত হয়েছে অন্যদিকে তেমনি আবার প্রায় ২০ লক্ষ শিশুকে ২০১২ সালের মধ্যেই প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতায় মসজিদ ও মন্দিরভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিকেও অন্তর্ভূক্ত হয়েছে ৭-৮ লক্ষ শিশু। এছাড়াও প্রায় সারা দেশেই বেসরকারী উন্নয়ন সং¯’াগুলো সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের কয়েক লক্ষ শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষায় অন্তর্ভূক্ত করেছে। বাংলাদেশে ‘সবার জন্য শিক্ষা’র ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষায়। এক্ষেত্রে ৫০% কন্যা শিশুসহ প্রায় ২০ মিলিয়ন শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে নিট ভর্তির হার গিয়ে পৌছেছে প্রায় ৯৭.৩%-এরও উপরে। ঝড়ে পড়ার হারও ইতোমধ্যে কমে গিয়ে নেমে এসেছে ২১ ভাগের কাছাকাছি।
পুরস্কার ঃ নারী শিক্ষায় বাংলাদেশের সাফল্য জাতিসংঘের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ইউনেস্কো সদর দপ্তর এরৎষং ধহফ ডড়সবহ ষরঃবৎধপু ধহফ বফঁপধঃরড়হ শীর্ষক সম্মেলনে টঘঊঝঈঙ ঈড়হভঁপরঁং ধহফ করহম ঝবলড়হম সাক্ষরতা পদক বিতরন করে এবং এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনেস্কো এর নিকট হতে ‘শান্তি বৃক্ষ’ পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া সাফল্যজনকভাবে সাক্ষরতা কর্মসূচী বাস্তবায়ন করায় ‘ইউনেস্কো বাংলাদেশকে ১৯৯৮’ সাক্ষরতা পুরস্কার প্রদান করে।
কোভিড-১৯ সংকট ও  সাক্ষরতা
করোনা প্রাদুর্ভাবঃ মাত্র ছ’মাস পূর্বেও আমাদের এই পৃথিবী ছিল ব্যস্ত ও প্রানচঞ্চল। বিশ্বজুড়ে কোভিড- ১৯ এর মহামারী নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন দেশের সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে পৃথিবীব্যাপী প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম প্রভাবিত হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের সরকার শিক্ষার্থীদের এই মারাত্মক ভাইরাস এর আক্রমণ থেকে রক্ষার কৌশল হিসেবে গত ১৭ই মার্চ ২০২০ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঁচমাস ধরে বন্ধ হয়ে ছয় মাস বন্ধের তালিকায়  চলমান আছে । পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাক্ষেত্রেও একই অব¯’া বর্তমান। করোনা ভাইরাসের সংক্রামন থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য পর্যায়ক্রমে সরকারীভাবে পরিপত্র জারী হ”েছ যা সর্বশেষ প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপন মোতাবেক ০৩ অক্টোবর ২০২০ পর্যন্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে । পরিপত্র অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বাস¯’ানে অব¯’ানের বিষয়টি অভিভবাকবৃন্দ নিশ্চিত করবেন এবং সংশ্লিষ্ঠ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগন তাঁদের নিজ নিজ শিক্ষার্থীগন যাতে বাস¯’ানে অব¯’ান করে তাদের নিজ নিজ পাঠ্যবই অধ্যায়ন করে সে বিষযটি অভিভাবকের মাধ্যমে নিশ্চিত করবেন।      
সমস্যাঃ আমাদের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কথা বিবেচনা করি (কৃষিজীবী, ভূমিহীন প্রান্তিক চাষি, রিক্সা/ ভ্যান চালক, তাঁতি/ কামার/ কুমার, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসা, সরকারি ও বেসরকারী চাকরি, ও স্বস্ব-উদ্যোগে নিয়োজিত ইত্যাদি)                                                      তাহলে একথা নিশ্চিত ভাবে বলা যাবে যে বেশিরভাগ অভিভাবকের পক্ষে সন্তানদের মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ স্কুলে পাঠানোর সক্ষমতা নেই। এমনকি, স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষে ক্লাসের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা বা নিয়মিত বিরতিতে শিক্ষার্থীদের হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া সম্ভব নয়। এমনকি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও উপকরন এর যথেষ্ঠ সীমাবদ্ধতা আছে।
দেশে বেশীরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেহেতু সনাতন পদ্ধতিতে পাঠ দান করা হয়, এটিকে একটি সফল অনলাইন ভিত্তিক পদ্ধতিকে রূপান্তর করা এ মুহুর্তে যথেষ্ঠ কঠিন কাজ। কারণ এই পদ্ধতির পরিচালনা করা ব্যয় বহুল এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মকর্তা ও কর্মীর যথেষ্ঠ অভাব আছে। বর্তমান পরি¯ি’তিতে বিশেষ প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যেতে হলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সংক্রমণ থেকে নিজেদের সুরক্ষার জন্য সামাজিক দূরত্ব (১ থেকে ২ মিটার দূরে থাকা) মেনে চলার জ্ঞান অনেকের থাকলেও তা যথাযথ ব্যবহার হচ্ছেনা।  তাহলে এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে আমরা অগ্রসর হবো? এর সম্ভাব্য উত্তর হলো আমাদের সকলের পরিবর্তিত পরি¯ি’তির সাথে খাপ খাইয়ে নেবার চেষ্টা করতে হবে। তবে নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে, আমরা এখনও সেই অব¯’ায় পৌঁছাতে পারিনি যেখানে পরিস্থিতির সাতে খাপ খাইয়ে চলার কথা চিন্তা করা যেতে পারে।
শিক্ষাবিদদের মতামত ও করনীয়ঃ অনলাইনে শিক্ষা অন্ততঃ মন্দের ভালো। পাঠ অভ্যাসটা থাকুক। ডিজিটাল দুনিয়ায় এখন অনলাইনে পড়াশোনা হতে পারে ক্লাস  পড়াশোনার পরিপূরক। আজ যে শিক্ষার্থী ডিজিটাল বিভাজনে হতাশ হয়ে পড়ছে, সেও হয়তো ভবিষতে হতাশা কাটিয়ে অনলাইনে পড়াশোনায় আগ্রহী হয়ে উঠবে। উপলব্ধি করবে- এই মাধ্যমে অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। ডিজিটাল লেখাপড়া ক্লাসরুমে পঠন-পাঠনের সম্পূরক না হোক, পরিপূরক হতে পারে। শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের মতে ৩০% ড্রপআউট হয়ে যেতে পারে, শিশুশ্রমে যুক্ত হওয়া, বাল্য-বিবাহের প্রবণতা বেড়ে যাওয়া, পুষ্ঠিহীনতায় ভোগা, সিলেবাস শেষ করতে না পারা, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট দক্ষতা না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা  পরিচালনায় অনিহা, সাধারণ ছাত্র ও ছাত্রীরা আরো পিছিয়ে পড়ছে এবং দুর্বল শিক্ষার্থীগণ আরো অধিকতর পিছিয়ে পড়ছে, শিক্ষার্থীর তাদের পাঠাভ্যস বাড়ীতে নিয়মিত হচ্ছে না, দরিদ্র মানুষের হাতে কোন টাকা পয়সা নেই, মানসিক স্বাস্থ্য এর মারত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সকলে প্রচন্ড আতংকিত আছেন। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিশুরা শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে, সবার বাড়ীতে টিভি না থাকায় তারা টিভির শিক্ষা কর্মসূচী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং যাদের আছে তা এ বিষয়ে অভ্যস্থ না থাকায় বুঝতে অসুবিধা হ”েছ,মায়েদের সংঙ্গে তাদেরকেও বাড়ীর কাজে সহযোগীতা করতে হচ্ছে, মেয়ে শিশুদের ড্রপ আউটের সম্ভাবনা বেড়ে যা”েছ,পরিবারের আয় কম হওয়ায় মেয়ে শিশুদের পরিবারের বোঝা মনে করা হ”েছ এবং বাল্য বিবাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিš‘, প্রান্তিক  জনগোষ্ঠীর অনেক শিক্ষার্থী ডিজিটাল ডিভাইসের অভাবে অনলাইন পাঠদানে অংশ নিতে পারছে না। এছাড়া এর আগে সব শিক্ষার্থীকে প্রোমোশন দিয়ে পরের শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করার বিষয়টি সামনে এলেও সেখানে মেধার সঠিক মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। তবে স্কুল খোলার সুযোগ পেলেও পরীক্ষা আয়োজন নয়, বরং সরকারের প্রথম বিবেচ্য হওয়া উচিত, যে শিক্ষার্থীদের আগে স্কুলে ফেরত আনা। এরপরে তাদের উচিত, এই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে তাদের যে ঘাটতি হয়েছে, সেটা পূরণ করার ব্যবস্থা নেয়া। কারণ অনলাইন, টেলিভিশন-রেডিওতে ক্লাস করার কথা বলা হলেও সব শিক্ষার্থী তো সে সবের সুযোগ পায়নি।
সরকারীভাবে শিক্ষন শোখানো কৌশল অবলম্বন ও নানবিধ উদ্যেগ গ্রহন;
১.সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক ¯’রে অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে।
২.করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল খোলা সম্ভব না হলে অটোপাস বা মূল্যায়ন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পরবর্তী শ্রেনীতে উত্তীর্ণ করে দেয়ার কথা ভাবছে প্রাথমিক  ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে সেজন্য সিদ্ধান্ত নিতে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায় মন্ত্রণালয়। তবে অক্টোবর ও নভেম্বরে স্কুল খোলা যেতে পারে সেই প্র¯‘তি নিয়ে দু’টি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি ও তা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
৩.বয়স্কদের মধ্যে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করা হবে।
৪.এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা আমলে নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে কোনো ঘোষণা দেয়নি।
৫.শিক্ষার্থীদের বাড়িতে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্কুট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
৬.কোভিড-১৯ এর ফলে অনলাইন শিক্ষার ব্যাপারে পূর্বের তুলনায় সচেতনতা বেড়েছে। সচেতনতাই যে কোনো সংস্কারের প্রথম ধাপ।
সুপারিশ ঃ
প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে ঃ টিভির মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান কর্মসূচীর রুটিন সকল অভিভাবকদের সরবরাহ করা ও মোবাইলের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ¯’াপন করা, বার্ষিক শিক্ষা কারিকুলামকে আরো ছোট ও সুনিদৃষ্ট করা, ডিজিটাল ক্লাসরুম চালু রাখা, বিশেষ শিক্ষাথীদেও বিশেষ শিক্ষন এর উপর আরও গুরুত্বারোপ করা,এক ডেস্ক একজন শিক্ষার্থী কর্মসূচী,
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টি, অতি দরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য শিক্ষা প্রনোদনার ব্যবস্থ’া করা, সিলেবাস শেষ করার জন্য স্কুল খুললে বিদ্যালয়ের বাইরে  বাড়তি কোচিং এর ব্যবস্থ’া নেওয়া, অনলাইন কোর্স উপকরন সরবরাহ করা,সহ শিক্ষামূলক কার্যক্রম কর্মসূচীতে জোরপ্রদান,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ’্যসূচী প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন, হোম টিচিং এর প্রশিক্ষন, শিক্ষা খাতকে ডিজিটালাইজেশন করার জন্য সবার আগে প্রয়োজন শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি করা। এছাড়া শিক্ষা খাতে আলাদাভাবে ‘আপদকালীন বাজেট’ অনুমোদন দেয়া যেতে পারে যা থেকে ভবিষ্যতে  অনাহত পরিস্থি’তি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হতে পারে, ডিজিটালাইজেশন করার জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরী করা, এসএমসি, পিটিএ,ইউনিয়ন শিক্ষা বিষয়ক ষ্টান্ডিং কমিটি ও অনান্য কমিটিকে আরও সক্রিয়করন করা যাতে স্কুল নিয়মিতকরন হয়,স্কুলগুলোতে জনসংপৃক্ততা বৃদ্ধি করার জন্য উদ্দ্যেগ গ্রহন করা, মিড ডে মিল এর ব্যবস্থা করা। ৩০ শতাংশ যারা ঝরে পড়তে পাওে এজন্য শিক্ষকদের দিয়ে তাদের একটা ডাটাবেস সরকারিভাবে এখনই করা দরকার এবং তাদের সঙ্গে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে এবং অভিভাবকদের সঙ্গে মোবাইল এর মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা । শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরো সক্রিয় করতে অন্তত ৩ মাস ইন্টারনেট ফ্রি করা,যোগাযোগের জন্য মোবাইলের কল রেট কমিয়ে আনা, তথ্য ও প্রযুক্তি সবার জন্য আরও সহজলভ্য করা।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাক্ষেত্রে ঃ কোভিড পরি¯ি’তি বিবেচনা করে এলাকাভেদে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে মাস্ক যথাযথভাবে ব্যবহার এব মধ্যমে এবং স্বা¯’্যবিধিমালা মেনে শিক্ষাথীদের সাক্ষরতা অর্জনে সহায়তা করা।
প্রয়োজনে দুটো সিফটে কেন্দ্র পরিচালনা করা যেতে পারে।
ক্সবয়স অনুযায়ী নিরক্ষরদের তালিকা প্র¯‘ত রাখা।  
সাক্ষরতার উন্নয়নে ”আলাদাভাবে ”আপদকালীন বাজেট” বরাদ্দ রাখা যাতে  ভবিষ্যতে দুর্যোগকালীন ও পরবর্তী অনাহত পরি¯ি’তি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হতে পারে।
সাক্ষরতার পাশাপাশি কর্মমূখী শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচী ব্যব¯’া করা।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষায় আরও গুরুত্ব দেয়া যাতে করে বাংলাদেশ একটি নিদ্দিষ্ট সময়ে এসডিজি লক্ষমাত্রা পূরন করতে পারে।  
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ে আরও প্রকল্প গ্রহন ও বাস্তবায়নে উদ্দ্যেগী হওয়া
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার, এনজিও এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতা প্রয়োজন। যদি এখন পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তবে পরে এটি সংশোধন করতে খুব দেরী হবে।
সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ ঃ এতোসব জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারনামা অনুসরণ করার আপ্রাণ চেষ্টা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের কাছে প্রণিধানযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সাক্ষরতা কিংবা ন্যূনতম মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রের এখন পর্যন্ত অসংখ্য সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে যার মধ্যে রাষ্ট্রীয় শিক্ষা নেতৃত্ব, রাষ্ট্র কর্তৃক সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী সঠিক তথ্য সেল এখন পর্যস্ত কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি , যেমন-ভৌগোলিক অব¯’ানগত কারণে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ প্রধান ভূখ- থেকে বি”িছনড়ব চর অঞ্চল, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে দিনাতিপাতকারী বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী/ আদিবাসী যারা রাষ্ট্রের সমতল ভূমি থেকে সার্বিক সুবিধাবঞ্চিত তাদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রীয় তথ্য ভা-ার (উধঃধনধংব) আরও সুদৃঢ় গড়ে তোলা, সামাজিক সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণি (যেমন- পতিতালয়ে জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা শিশু, যাযাবর শ্রেণির বেঁদে গোষ্ঠীর জনগণ), অর্থনৈতিক কারণে সৃষ্ট সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, শহরের রাস্তায় ভাসমান জনগোষ্ঠী: নগরায়নের ছায়াতলে দেশের নানা অঞ্চল থেকে আগত অগণিত মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরতলীর রাস্তায় দিন যাপন করে, দরিদ্র এতিম শিশু, ছিটমহলে বসবাসরত দরিদ্র মানুষ, শারীরিক ও মানসিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু, হতদরিদ্র শিশু বিশেষ করে নারী-শিশু ইত্যাদি। পাশপাশি আন্তঃমন্ত্রনালয় এর সমন্বয় এর অভাব কারনে অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রনালয় থেকে একই ধরনের কর্মসুচী একই এলাকায় বাস্তবায়ন হলেও সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন, শিক্ষার গুরুত্ব সচেতনতার অভাব ইত্যাদি।
পরিশেষে বলতে হয় করোনাভাইরাসের প্রভাবে পুরো দুনিয়া জুড়ে যে ¯’বিরতা নেমে এসেছে তা থেকে রেহাই পায়নি শিক্ষাব্যব¯’াও। দীর্ঘ এই লকডাউন চলাকালীন সময়ে ও লকডাউন পরবর্তীকালে কী কী ব্যব¯’া গ্রহণ করা হলে শিক্ষাক্ষেত্রে এর প্রভাব কিছুটা হলেও কমানো যেতে পারে তা নিয়েই আমাদের আরও  ভাবতে হবে। সবাইকে আজও আনতে পারিনি স্কুলে ও সাক্ষরতা কেন্দ্রে, অনেককে পারিনি শিক্ষার আলো দিতে। বহু মানুষ আজও শ্রমঘন কাজ করে। বহু শিশু পথশিশু কিংবা টোকাই। তাই তাদের মূল মানবিক উন্নয়নের ধারায় আনতে হবে। আনতে হবে অর্থনীতির চাকার কর্মী করে। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জল দিনগুলোকে যেমন জানতে হবে তেমনি জাতির সঠিক ইতিহাসও প্রতিটি নাগরিকের জানা দরকার। এতে করে একদিকে যেমন দেশপ্রেমবোধ জাগ্রত হবে তেমনি ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান আমাদের জন্য যে অনুকরণীয় সুমহান আদর্শ রেখে গেছেন তা আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে। তবে সবকিছুর আগে চাই শতভাগ মানুষের সাক্ষরতা। সরকারি ও বেসরকারি সম্মিলিত প্রয়াসে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণ কর্মসূচী অচিরেই একটি সফল সামাজিক আন্দোলনে পরিগণিত হবে এবং তা এসডিজি গোল ৪ ও সংশ্লিষ্ট ০৪ টার্গেট পুরনের মধ্যে দিয়ে কাঙ্খিত রূপায়ন, সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে বলে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। তাই আসুন , আজকের এই দিনে আমরা সকলেই নিজ নিজ অব¯’ান থেকে এ বিষয়ে অবদান রাখতে সচেষ্ট হই।আমরা যারা শিক্ষিত তারা ঋণ শোধ করি। একজন শিক্ষিত ব্যক্তি যদি একজন নিরক্ষরকে শিক্ষিত করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়, তাহলে মাত্র দু’বছরেই শতভাগ সাক্ষরতা অর্জন সম্ভব। সুতরাং ২০২০ সালের  মহামারি আমাদেও যে শিক্ষা দি”েছ তা থেকে  মানবিক আর্তি এবং একান্ত প্রত্যয় নিজ সন্তানকে শিক্ষিত করব, প্রতিবেশীকেও শিক্ষিত করব, আরও কাজ করি, আরও সমাজমুখী হই, আরও বিবেকবান হই, আরও মানবিক হই, আরও সহানুভুতিশীল হই, বহু ভাষায় সাক্ষরতা অর্জনে আরও সহায়ক ভুমিকা রাখি এবং নিজে উন্নত জীবনযাপন করি এবং অন্যকেও এ ধারায় আনতে সহযোগীতা করি।
আর যদি না পারি তাহলে সভ্যজন হিসেবে সভ্যতার খাতায় নাম লেখানোর কী এমন অর্থ থাকতে পারে? রক্তের দামে সাহসের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জিতেছি। বহু সূচকে আমরা এগিয়েছি এবং ইতিমধ্যে হারিয়েছি অনেককে। তাই দৃঢ় বিশ্বাসে বলা যায়, শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনেও আমরা জিতবো, অবশ্যই জিতবো এ প্রত্যাশা অলীক নয়, বরং সত্য। একান্ত বাস্তব। একান্তই সত্য। তাই শুধু সরকার দেশের সবার দায়িত্ব নিলে সময় বয়ে যাবে অনেক। আমরা সবাই মিলে যদি যার যার অব¯’ান থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করি তাহলে সমাজ, সরকার ও মানবিকতা রক্ষা পাবে, জাতি উন্নত হবে। তবেই আমরা গড়তে পারব সুখি সমৃদ্ধ ও জ্ঞানের আলোয় আলোকিত সোনার বাংলাদেশ। লেখক: নির্বাহী পরিচালক. আশ্রয় ফাউন্ডেশন, খুলনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: