আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

দেবহাটায় বাড়িতেই চেম্বার করে রুগি দেখেন বাপ-ছেলে ভুুল চিকিৎসায় অঙ্গ হারাতে বসেছে ২১ মাসের শিশু আজিম

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার আমিরুল ইসলাম মধুর ছেলে আকিব হোসেন আকাশ (ডি.এম.এফ-ঢাকা) নিজেকে মা, শিশু ও কিশোর রোগে অভিজ্ঞ ডাক্তার। তার বাবা কোমরপুরস্থ শাহিদা সেবা কেন্দ্রে (রেজিঃ নং- ৮৯০৫২৪) চিকিৎসা প্রদান করেন। আর সেই সুবাদে উচ্চ মাধ্যমিক গোন্ডি না পেরিয়ে বাবার চেম্বারে নিজেই হয়ে গেছেন অভিজ্ঞ ডাক্তার। শুধু তাই নয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মত নিজের নামে ব্যবস্থাপত্র ছাপিয়ে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা প্রদান করছেন আকাশ।
তার এই অপচিকিৎসায় বলি হয়েছেন ভাতশালা গ্রামের আলামিন সরদারের ২১ মাসের শিশু আজিম হোসেন। হাতুড়ে চিকিৎসকের অপচিকিৎসায় বর্তমানে শিশুটি নিজ শরীরের ডান পাশ পুরোপুরি অচল হতে বসেছে। এঘটনায় শিশুটি এখন প্রতিবন্ধী হওয়ার উপক্রম হতে বসেছে।
শিশু পুত্রের দাদা গোলাম রসুল সরদার(৬২) জানান, গত শুক্রবার আমার পোতা বাড়িতে খেলা করার সময় খাট থেকে মেঝেতে পড়ে আঘাত পায়। পরিবারের সদস্যরা মিলে কোমরপুরস্থ শাহিদা সেবা কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। এসময় চেম্বারে গ্রাম্য চিকিৎসক আমিরুল ইসলাম মধু না থাকায় তার ছেলে আকিব হোসেন আকাশ কোন পরিক্ষা নিরিক্ষা ছাড়াই শুরু করেন অপচিকিৎসা। এরপর পূর্ণ বসয়ী মানুষের ইনজেকশন শিশুর শরীরের কোমরে পুশ করে। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। আসার পরপরই শিশুর দেহের হাত, পা নিস্তেজ গাল বেঁকে যেতে থাকে। এরপর তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রতিবেশীদের পরামর্শে সাতক্ষীরার শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আজিজুর রহমানের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার আজিজুর রহমান পূর্বের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে নতুন ভাবে চিকিৎসা শুরু করেন। গ্রাম্য ডাক্তারের দেওয়া চিকিৎসা ভুল বলে জানান তিনি।
এদিকে ভূক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মধু ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে কথা হয় তার সাথে। এই অপচিকিৎসার কথা জানতে চাইলে দায় স্বীকার করেন। তবে মধু ডাক্তারের চেম্বারের কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এমনকি তার ছেলে আকাশ নিজেই কত সালে এস,এসসি পাশ করেছেন সেটিও সঠিক করে বলতে পারেননি। একজন মাধ্যমিক পাশ ছাত্র কিভাবে মা, শিশু ও কিশোর রোগে অভিজ্ঞ। সে বিষয়ে জানাতে চাওয়া হলে মধু ডাক্তার তার নিজের অভিজ্ঞতায় তার ছেলে অভিজ্ঞ বলে জানান।
তবে বিষয়টি নিয়ে আবিক হোসেন আকাশ জানান, তার বাবার চেম্বারে সে নিজেই রুগী দেখেন। ঢাকা থেকে তার ট্রেনিং করা আছে। শিশুটি ব্যাথা পেয়েছিল ভেবে ইটোরাক-৩০ (ঊঃড়ৎধপ-৩০) প্রদান করি। কিন্তু পরে জানতে পারছি ইনজেকশনটি শিশুদের জন্য ক্ষতিকর।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর লতিফ জানান, গ্রাম ডাক্তাররা ব্যবস্থাপত্র লিখতে পারেন না। তবে অধিকাংশরাই এটি মানেন না। বর্তমানে অনেক গ্রাম ডাক্তাররা ভুল চিকিৎসা প্রদান করছেন বিষয়টি শুনেছি। তবে তিনি যে কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: