আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সহায় সম্বলহীন আহসানুল্লাহর এবার ডাক পড়েছে ডিবি অফিসে

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে তালা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের আহসান উল্লাহ এখন সহায় সম্বলহীন। প্রতারক চক্রের বাহিনী প্রধান পটুয়াখালীর আলতাব হোসেন তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে এবং পুলিশের সহায়তায় তাকে নিঃস্ব করে ছেড়েছে। আদালতে আটটি মামলার মধ্যে পাঁচটি চলমান থাকলেও এবার ডাক পড়েছে সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশে। অপরদিকে আলতাফ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা শতশত ব্যক্তির কাছ থেকে হাতিয়ে নিলেও তিনি রয়েছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
পটুয়াখালীর আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বে চক্রটি খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী সহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। চাকরি দেয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও করা, খাস জমি বন্দোবস্ত করে দেয়াসহ বিভিন্ন কাজ করে দেয়ার নাম করে নিরীহ ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারক চক্রটি পুলিশ ও প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় গত পাঁচ বছর ধরে তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। ব্যবসা করার প্রলোভন দেখিয়ে আহসানউল্লাহর কাছ থেকে ইতিমধ্যেই হাতিয়ে নিয়েছে সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা। 

আলতাব হোসেন টুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার মানিকচাঁদ গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের পুত্র। তিনি চাকুরী ছেড়ে খুলনা শহরে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। তিনি কখনো শিক্ষক কখনো সিটি করপরেশনের কর্মচারী পরিচয় দেন। প্রতারণার কাজে ব্যবহার করেন একাধিক মোবাইল নাম্বর (০১৯২২৬৩২৭৭১, ০১৯১১৪২০৭৯৪, ০১৭১১৯২৮৫৫১ ও ০১৭২৯৪৭৭৫১২)। তার নেতৃত্বে গলাচিপার হাফিজুর রহমান (মোবাইল নাম্বার ০১৭১৬০৫৪১৬৪), খুলনা সিটি কলেজের পিছনে বসবাসকারী কথিত এমবিবিএস ডাক্তার হামীম মামা (মোবাইল নাম্বার ০১৭১১২৮৩৩০২), খুলনার মনোয়ার হোসেন মনা, গোপালগঞ্জের নওশের আলী গাজী (মোবাইল নাম্বার ০১৭১১০২৬৯৬৩), পটুয়াখালীর আনু মোহাম্মদ মুসা সহ প্রায় ৩০ সদস্যের একটি প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে। এরা খুলনার বটিয়াঘাটা মাথাভাঙ্গা মৌজার ভুতের আড্ডা পার্ক সংলগ্ন খাস জমি বন্দোবস্ত দেবার নাম করে ১১০ জন ব্যক্তির কাজ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। ২০ শতকের একটি প্লট দেবার নাম করে প্রতিটি ব্যক্তির কাছ থেকে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে। এতে সহযোগিতা করেন বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস সহকারি ও উপজেলা ভূমি অফিসের হেড ক্লার্ক। কিন্তু তাদের ১ শতক জমিও দেয়নি তারা। তাদের প্রতারণার শিকার হন এই ১১০ জন ব্যক্তি।
যারা প্রতারনার শিকার হয়েছেন তাদের একজন খুলনার পাওয়ার হাউস মোড়ের সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক সুলতান আহমেদ ( মোবাইল নাম্বার ০১৭১৯০১৬৪১৯)। তার পর কাছ থেকে প্রতারকচক্রটি হাতিয়ে নেয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। খুলনার ছোট বয়লার ফয়সাল আহমেদ। তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গাজী নূর আহম্মদের ( মোবাইল নাম্বার ০১৯১৬৭৯৩৪৯৩) কাছ থেকে হাতিয়ে নেন ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। খুলনার গোয়ালখালীর মাওঃ ওসমান করিমের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। রূপসার মাওঃ আব্দুল্লাহর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের মাওঃ আব্দুল মজিদের কাছ থেকে নেয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। খুলনার ২৫০ বেগ হয় হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ফজলুল উলুম মাদ্রাসার ইমাম ও মোয়াজ্জিম মোস্তফা কামালের কাছ থেকে নেয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। খুলনা টেক্সটাইল মার্কেটের হানিফ ভান্ডারের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ৬০ হাজার টাকা। 
প্রতারক আলতাফ হোসেনের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা সদর থানার সাবেক ওসি মারুফ আহহ্মেদ তালা থানার নওয়াপাড়ার বাড়ি থেকে আহসানুল্লাহকে তুলে আনে সদর থানায়। থানায় আটকে তার কাছ থেকে আদায় করে নেয় ২ লক্ষ টাকা। এবার একই ধরনের পন্থা অবলম্বন করেছে আলতাফ হোসেন। সহায়তা নিচ্ছে ডিবি পুলিশের। অপরদিকে টাকা লেনদেনের ঘটনায় খুলনা মহানগর আদালতে মামলা করেছেন চারটি এবং পটুয়াখালী গলাচিপা আদালতে মামলা করেন চারটি। খুলনা মহানগর আদালতের মামলাগুলো এবং গলাচিপা আদালতের একটি মামলা চলমান রয়েছে। খুলনা মহানগর দায়রা সিআর মামলা নম্বর ১৪১/১৯, ১৪২/১৯, ১৫৩/১৯, ১৫৪/১৯, এবং গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত মামলা নম্বর সিআর ১৮৬/১৯। এবার ডিবি পুলিশ দিয়ে আহসান উল্লাহকে হয়রানি পরিকল্পনা করেছেন।
আদালত পাড়ার আইনজীবীরা জানান, এই গ্রতারকচক্রের প্রথম সারির সদস্যরা একেকজন একেক বিষয়ে দেখভাল করে। মামলা পরিচালনা করেন আলতাফ হোসেন। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেন ডাক্তার হামীম মামা। গোপালগঞ্জের নাম ভাঙিয়ে নওশের আলী গাজী ম্যানেজ করেন রাজনৈতিক দলগুলোর না নেতাদের। 

Leave a Reply

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: