আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ভোমরা বন্দর বাজারসহ শহরতলীর বাজারে চাল, সবজি, মাছ ও মাংসের মূল্য আকাশ ছোঁয়া

আমির হোসেন: সাতক্ষীরার সীমান্ত বন্দর এর হাট-বাজার থেকে শুরু করে শহর ও শহরতলীর প্রতিটি হাট-বাজার সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজি প্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বস্তাপ্রতি বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। যার প্রভাব খুচরা ও পাইকারী বাজার দুটোতেই পড়েছে। পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় চালের দামও বেড়ে গেছে। আর খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারী ব্যসায়ীদের ওপর দোষারোপ করছেন। অন্যদিকে ধানের বাজারের উদ্ধগতির কারণ হিসেবে অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কতিপয় মিল মালিকদের মজুদ ব্যবসাকে দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ। খুচরা বাজরে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাটারী চালের মূল্য ছিল ৪৪ টাকা যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে ৫০-৫২ টাকা হয়েছে।এছাড়া জিরা ৪৬ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, আটাশ ৪২ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬ টাকা, সুগন্ধি আতপ চাল ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে চাল সরবরাহ কম থাকায় চাহিদার মাত্রা বেশি থাকায় মোটা জাতের হাইব্রিড চালের মূল্য কেজি প্রতি প্রায় ৬ টাকা বেড়েছে। এছাড়া পাইকারী বাজার গুলোতে মিনিকেট ৫০ কেজি ওজনের বস্তা প্রতি চালের দাম গত সপ্তাহে ২৩শ টাকা ছিল, যা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে ২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পারিজা ২২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড মোটা চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষগুলো।যাদের নুন আনতে পানতা ফুরায় তারাই পড়েছে মহাসংকটে। সাতক্ষীরার স্থল বন্দর বাজার থেকে শুরু করে শহর ও শহরতলীর প্রায় ৩০টি হাট-বাজার গুলোতে চালের মূল্য আকাশ ছোঁয়া। এছাড়া গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার গুলোতে চালের দাম বেড়েছে মাত্রারিক্ত। সেটা সাধারণ দিনমজুর ও খেটে খাওয়া লোকজনদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। ভোমরার বাজার, শাঁখরা হাট, শ্রীরামপুর বাজার, কুলিয়া বাজার, ভাড়ুখালী বাজার, মাহমুদপুর বাজার, আলীপুর বাজার, ঘোনা বাজার , ছনকা বাজার, বৈকারী বাজার, আবাদের হাট, কুশখালী হাট গুলোতে বেড়ে গেছে সব রকম চালের দাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি এলাকার মিল মালিকরা জানান, বিভিন্ন প্রজাতির ধানের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় চালের মূল্য কিছুটা বেড়ে গেছে। তবে এক শ্রেণির মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা চালের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে মূল্য বৃদ্ধি করেছে। যার প্রভাব পাইকারী ও খুচরা বাজারে পড়েছে। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, টাক্সফোর্সের মাধ্যমে চালের বাজার গুলো মূল্য নিয়ত্রনে মনিটারিং ব্যবস্থা থাকলে চালের মূল্য বৃদ্ধি পাবে না। এদিকে চালের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কাচা বাজারে সব ধরনের শাক-সবজির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোমরাসহ গ্রামাঞ্চল , শহর ও শহরতলীর বাজার গুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির মধ্যে গোল আলু কেজি প্রতি ৪০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৪০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ৩০ টাকা, কাচাকলা প্রতি কেজি ৫০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৩০ টাকা, মিষ্টি-কুমড়া প্রতি কেজি ৩০ টাকা, ওল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মানকচু প্রতি কেজি ৪০ টাকা, কাকরোল প্রতি কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৪০ টাকা, কচুরমুখি প্রতি কেজি ৪০ টাকা, বিক্রি হয়েছে। কাঁচাঝাল প্রতি কেজি ২০০শ থেকে ২৫০শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ছিল প্রতি কেজি ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা। সব মিলিয়ে সবচিজর বাজারে জ্বলছে আগুন। এদিকে মাছ বাজারে বেড়েছে সব ধরনের মাছের দাম। প্রতি কেজি হরিনা চিংড়ি ৬০০ টাকা, চামনি চিংড়ি প্রতি কেজি ৬০০ টাকা, পারশে প্রতি কেজি ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টেংরা প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাবদা প্রতি কেজি ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া বিভিন্ন ওজেনের ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি কেজি প্রতি ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিলভার কার্প (ছোট) কেজি প্রতি ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পুঁিট মাছ প্রতি কেজি ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে মাংসের বাজারে প্রতি কেজি খাসি মাংস বিক্রি ৭শ থেকে ৮শ টাকায়। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকায়। জবেহ কৃত পোল্ট্রির মাংস প্রতি কেজি ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগীর মাংস প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাতক্ষীরার হাট-বাজার গুলোতে চাল, সবজি, মাছ, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় রান্না মসলাসহ প্রতিটি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: